ইরানের গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালিছে ইসরায়েল

প্রকাশ : 15 Jun 2025
ইরানের গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালিছে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রে হামলা চালিছে ইসরায়েল। বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র দক্ষিণ পার্শ গ্যাস ফিল্ড। ইরান এবং কাতার দুই দেশের মাঝে এই অঞ্চলটির অবস্থান। পার্শ গ্যাস ফিল্ডে উৎপাদন হওয়া গ্যাসের দুই তৃতীয়াংশ ইরানের বিবিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। বিশ্বে মার্কিন য্রক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার পর গ্যাস উৎপাদনের ক্ষেত্র তৃতীয় দেশ ইরান। খবর ভারতের সংবাদপত্র গণশক্তি। 

ইরান ইজরায়েলের সামরিক সংঘাতে এতদিন পর্যন্ত পরমাণু কেন্দ্রে বা সেনাঘাটি ঘিরে হচ্ছিল। কিন্তু এই প্রথম ইজরায়েল গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ করে হামলা চালিয়েছে। অনেকে মনে করছে এবার তেল উৎপাদনগুলোকে লক্ষ বস্তু করবে ইজরায়েল।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করে আসছিল মার্কান মদদে ইরানের ওপর হামলা করছে নেতানিয়াহু। এই পরিস্থিতিতে রবিবার সামাজিকমাধ্যমে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প লিখছেন, ইরানে যে হামলা হয়েছে, তা নিয়ে আমেরিকার কিছু করার ছিল না। যদি আমাদের উপর কোনও পথে, কোন ভাবে বা আকারে ইরান হামলা চালায় , তা হলে আমেরিকার সেনাবাহিনী সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে আপনাদের উপর । এমন ভাকে ঝাঁপিয়ে পড়বে যা আগে দেখা যায়নি। সূত্রের খবর আমেরিকার সাথে আলোচনা করেই ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আমেরিকার দাবি আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ ভেঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালাচ্ছে ইরান। ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসুচি চালিয়ে যাক চায় না ট্রাম্প প্রশাসন। 

একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ইতিমধ্যেই ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতা ৬০ শতাংশ নিয়ে গেছে। পরমাণু অস্ত্র তৈরী করতে এই বিশুদ্ধতার পরিমাণ আরও কয়েক শতাংশ বৃদ্ধি করতে হবে ইরানকে। এই নিয়ে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে বৈঠকের কথা হলেও বার বার ভেস্তে গিয়েছে। ৬০ দিনের সময়সীমা বেধে দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই সময় ইতিমধ্যে পার হয়ে গেছে।


শনিবার তেলাবিব ও জেরিজালেমে ইরান আক্রমণ করেছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ইজরায়েলকে সহায়তা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। 

চলতি পর্বে ইজরায়েলের হামলায় তিনটি উদ্দেশ্য সামনে এসেছে বলে মনে করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

এই অংশের মত অনুযায়ী একটি উদ্দেশ্য হলো, পরমাণু কর্মসুচি বন্ধ করিয়ে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি সই করতে ইরানকে বাধ্য করা। দুই, পশ্চিম এশিয়ায় মুলুক দখলে বাধা দেওয়ার মতো কেই না থাকে নিশ্চিত করা। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর হামাস এবং হিজবুল্লাহর একাধীক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। তিন, ইরানে জমানা বদল বা আমেরিকার 'রেজিম চেঞ্চ' নীতি কয়েম করা।


উল্লেখ্য, ১৩ জুন ইরানের তেহরানে পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী আগেই রেকর্ড করে রাখা একটি ভিডিও বার্তায় এসব হামালার কথা নিশ্চিত করেন। এরপর পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।


সম্পর্কিত খবর

;