স্কুলে না এসেই মাসের বেতন পকেটে, ধুনটে গণিত শিক্ষিকার কাণ্ড।

প্রকাশ : 25 Feb 2026
স্কুলে না এসেই মাসের বেতন পকেটে, ধুনটে গণিত শিক্ষিকার কাণ্ড।

জেলহজ্ব ইসলাম বগুড়া অফিস : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষিকা আফরিনা রহমান গণিত পদে নিয়োগ পেলেও মাসে মাত্র একদিন বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের স্বাক্ষর করে ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলন করছেন বলে জানা গেছে।


বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এনটিআরসিএ-এর সুপারিশে সহকারী শিক্ষক (গণিত) হিসেবে নিয়োগ পান আফরিনা রহমান। ওই বছরের ১ অক্টোবর তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর থেকে তিনি প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই দিনের পর দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন। মাসের শেষে একদিন এসে হাজিরা খাতায় সই করে বেতন তুলে নিচ্ছেন তিনি।


গণিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষককে দীর্ঘ সময় না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা শুনেছে গণিত বিষয়ে একজন নতুন ম্যাডাম স্কুলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু তাকে কোনোদিন তারা ক্লাসে দেখেনি, এমনকি তার নামও তাদের জানা নেই। গণিত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষক না থাকায় তাদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হচ্ছে।


ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জানান, ওই শিক্ষিকার যদি চাকরির প্রয়োজন না থাকে তবে তার স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে এভাবে সরকারি বেতন-ভাতা তোলা অনৈতিক। তারা অবিলম্বে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


এ বিষয়ে শিক্ষিকা আফরিনা রহমান বলেন, আমি বিনা বেতনে ছুটিতে থাকার জন্য প্রধান শিক্ষককে বলেছি। এছাড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে যে কয়েক মাসের বেতন আমি তুলেছি, সেই মাসগুলোতে হাজিরা খাতায় আমার সই করা আছে।


বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে যোগদানের পর তিনি মাত্র দুই দিন উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু প্রতি মাসেই তার বেতন হয়েছে। তাকে বারবার ফোন করেও স্কুলে আনা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তার বেতন বন্ধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে গণিত শিক্ষকের অভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রীতিলতা বর্মন এ বিষয়ে জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর

;