ভারত ও পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি হামলা

প্রকাশ : 09 May 2025
ভারত ও পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গত রাতেও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে হতাহতের খবর দিয়েছে জনপ্রিয় গণমাধ্যমগুলো। 

সংবাদ সংস্থাটি প্রতিবেদনে জানান, পাকিস্তানের গোলাবর্ষনে ভারত শাসিত কাশ্মীরে এক সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যূ হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেয়া পোষ্টে এতথ্য দিয়েছেন।

  পাকিস্তান ভারত শাসিত কাশ্মীর এবং পাঞ্জাবের তিনটি সামরিক স্থাপনায় ড্রােন হামলা চালিয়েছে। ভারতের সেনা বাহিনী এই দাবি নাচক করেছে পাকিস্তান। সংবাদসংস্থা বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। 

পাকিস্তানের ড্রােন হামলায় ভারতের পাঞ্জাবের ফিরোজপুরে একই পরিবারের তিন জন আহত হওয়ার খবর দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম এনডিটিভি।  শুক্রবার ( ৯ ) সন্ধ্যার পর ভারতের উত্তরাঞ্চলে ড্রোন হামলা শুরু করে পাকিস্তান। 


ভারতে সেনা বাহিনী বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়,  পাকিস্তান ভারত শাসিত কাশ্মীরের উধমপুর এবং পাঞ্জাবের পাঠানকোটের তিনটি সামরিক স্থাপনায় ড্রােন হামলা চালিয়েছে। 

ফিরোজপুরের পুলিশ কর্মকর্ত ভুপিন্দর সিং বলেন, আমরা তিনজনের আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিবিসি বাংলা আরও জানায়,  ভারতের 'অপারেশন সিন্দুর' এর বদলা হিসেব পাকিস্তান 'অপারেশন বানিয়ান মারসুম' শুরু করেছে।

প্রতিবেদনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগের দাবির বরাতে  বলা হয়,  ভারত তাদের তিনটি বিমানঘাটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে। এর জবাবে পাকিস্তান ভারতের পাঠানকোট, উধমপুরসহ ভিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উত্তর পশ্চিম ভারতের ৩২টি বিমানবন্দর বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


ভারতের বাংলা সংবাদপত্র গণশক্তি এক প্রতিবেদনে বলেন, ভারত সরকার বিমানবন্দর বন্ধ রাখার সময়সীমা বাড়িয়েছে। ২৪টির বেশী বিমানবন্দর বন্ধের সময়সীমা ১৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।


গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দুই রাষ্ট্রের মধ্যে চড়ম উত্তেজনা চলছিল। ২৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে প্রথমবার কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলি হয়। যা টানা অব্যাহত ছিল। 

এমন টানটান পরিস্থিতিতে মধ্যে মঙ্গলবার ৬ মে মধ্য রাতে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে হামলা চালিয়েছে ভারত। এই হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে। এত এপর্যন্ত সর্বশেষ পাকিস্তানে ৩১ জন নিহত ও ৫৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এরপর বারতের সীমান্তে পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালালে ভারতে ১৩ জন নিহত হয়। এর মধ্যে একজন ভারতীয় সেনা সদস্য রয়েছে। আহত হয়েছে অন্ত ৪৩ জন।

দুই দেশের তথ্য মতে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে। আর আহত হয়েছে শতাধিক। 


ভারত গণমাধ্যমকে ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে,  ৬ মে মধ্যরাতে ভারতীয় সশস্ত্র সেনাবাহিনী বেছে বেছে কেবল সন্ত্রাসবাদীদের ঘাটিতে এ হামলা চালােনো কথা জানিয়েছে । এই রকম ৯টি ঘাটিতে হামলা চালানো কথা স্বীকার করছে ভারত। 

ভারত হামলার প্রসঙ্গে বলেন, কোন সামরিক ঘাটিতে আক্রমণ করা হয়নি। এই হামলার নাম দেওয়া হয়েছে 'অপারেশন সিঁদুর'। কতলি, আহমদপুর, শারকিয়া, মুজাফ্ফরবাদ, মুরিদকে, ফয়সলাবাদ, ভাওয়ালপুরে এ হামলা করা হয়েছে। 

 

পাকিস্তান এই হামলাকে 'কাপুরুষোচিত' ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বলে অভিযোগ করেছে।  হামলার সময় ৫টি ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তান।


গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। সন্ত্রাসবাদীদের মদত ও নিজেদের মাটি ব্যবহার করতে দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে আসছিল ভারত।



সম্পর্কিত খবর

;