হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে

প্রকাশ : 13 Jun 2024
হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট: সৌদি আরবের মক্কায় হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আজ আরবি হিজরি ১৪৪৫ জিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখ। জিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখ থেকে হজ শুরু হয়।৯ জিলহজ্জ আরাফাতের দিন। ১০ জিলহজ্জ হাজীরা পশু কোরবানি দেন।


হজ্জ মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক ইসলাম জমায়েত বা তীর্থযাত্রা। মুসলমানদের জন্য হজ্জ বাধ্যতামূলক ধর্মীয় ইবাদত।শারিরীক ও আর্থিকভাবে সক্ষম এবং হজযাত্রার অনুপস্থিতিতে তার পরিবার নিজেদের ভরনপোষনে সক্ষম হলে সকল প্রাপ্ত মুসলমানদের জীবনে একবার হলেও হজ্জ পালন করতে হবে।


ইসলামী ব্যাখ্যামতে , হজ্জ হলো সৌদি আরবের শহর মক্কায় অবস্থিত "আল্লাহর ঘর" কাবার উদ্দেশ্যে তীর্থযাত্রা।এটি শাহাদাহ(আল্লাহর কাছে শপথ), সালাত (প্রার্থনা), যাকাত (দান) এবং সাওম ( রোজা) এই পাঁচটি স্তম্ভরের একটি।হজ্জ মুসলিম জনগণের সংহতি এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে আত্মসমর্পন।হজ্জের অর্থ হলো যাত্রায় যোগদান করা। যাত্রাটি ৫-৬ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়।ইসলামি বর্ষপঞ্জীর শেষ মাস  জিলহজ্জের ৮-১২ তারিখ পর্যন্ত।

হজ্জ ৭ম শতাব্দীর ইসলামের নবী মুহাম্মদের জীবনেরসাথে জড়িত, তবে মক্কায় জমায়েজ (হজ্জ) অনুষ্ঠানটি ইব্রাহিমের সময়কাল পর্যন্ত হাজার বছরের পুরানো। হজের সময় হাজীগন পদযাত্রায় যোগ দেন।এক সপ্তাহের জন্য মক্কায় একত্রিত হন। প্রত্যেক ব্যক্তি কাবার ( একটি ঘনক আকৃতির ভবন, প্রর্থনার জন্য কিবলা) চারপাশে সাতবার ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে হাটেন।সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝখানে সাতবার দ্রুত পায় হেটে যান।তারপর জমজমকূপ থেকে পানি পান করেন।আরাফাতের ময়দানে গিয়ে অবস্থান করেন।মুজদালিফার ময়দানে একটি রাত কাটান। শয়তানের প্রতিকীতে তিনটি স্তরে পাথর নিক্ষেপ করেন। একটি পশু কোরবানির পর হাজীরা মাথা ন্যাড়া বা চুর ছাঁটাই করতে হয় (পুরুষ) আর মহিলাদের চুলের প্রান্ত ছাঁটাই করতে হয়। এরপর ঈদুল আজহার চারদিনব্যাপী উৎসব উদযাপন হয়।

মুসলমানরা বছরের অন্য সময় মক্কায় ওমরাহ বা সংক্ষিপ্ত হজ্জযাত্রা করতে পারেন।তবে, ওমরা হজ্জের বিকল্প নয়, তাদের সামর্থ্য থাকে জীবনদশায় অন্তত একবার হজ্জ পালন করা বাধ্যকতা রয়েছে ( যাদের সামর্থ্য আছে)।


২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে প্রতি বছর গড়ে ২,২৬৯,১৪৫ জন হজে উপস্থত হন। এদের মধ্যে ১,৫৬৪,৭১০ জন সৌদি আরবের বাহির থেকে আসেন। বাকি ৬৭১,৯৮৩ জন সৌদি নাগরিক।

কোরান অনুসারে হজ্জের মুলসূত্র ইব্রাহিমের সময়কাল থেকে পাওয়া যায়। আল্লঅহ ইব্রাহিমকে স্ত্রী হাজেরা ও তার শিমুপুত্র ইসমাইল কে মক্কার মরুভূমিতে রেখে যাওয়ার নির্দেশ দেন।পানির সন্ধ্যানে শিমুপুত্রকে একা রেখে হাজেরা সাফ ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝখানে গিয়েও পানি না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে অসেন। এস দেখেন শিশুটি পা দিয়ে মাটি আচড়াচ্ছেন এবং তার পায়ের নীচ থেকে একটি ফোয়ারা বের হচ্ছে। পরবর্তীতে ইব্রাহিমকে কাবা নির্মানের আদেশ দেওয়া হয়েছিল এবং এখানে জমায়েত হওয়ার জন্য লােকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।কথাত আছে, প্রধান ফেরেস্তা জিবরাইল কাবার সাথে সংযুক্ত করার জন্য জান্নাত থেকে কালো পাথরটি নিয়ে এসেছিলেন।

প্রাক-ইসলামি আরবে, জাহেলিয়াতের যুগে কাবা পৌত্তলিক মূর্তি দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে ওঠলে , ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ তার অনুসারিদের নিয়ে মদিনা থেকে মক্কায় অভিযান পরিচালিত করে সকল পৌত্তলিক মূর্তি ধ্বংস করেন। ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে শেষ হজ্জযাত্রা করেন এবং হজ্জের আচার-অনুষ্ঠনের নীতিমালা দেন। এ সময় থেকে হজ্জ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভরের একটিতে পরিণত হয়।

হিজরি বর্ষপঞ্জির জিলহজ্জমাসে ১-১২ তারিখ পর্যন্ত হজ্জের সময়। ১০ দিনের মধ্যে ৯ জিলহজ্জ আরাফাতের দিন হিসেবে পরিচিত এবং হজের দিনও বলা হয়।

হজ্যাত্রীরা যখন ইহরাম ( পবিত্র অবস্থা) অবস্থায় প্রবেশ করে তখন তাদের কিছু কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়। ইহরাম অবস্থায় পুরুষদের সাদা সেলাইবিহীন কাপড় পরতে হয়। মহিলাদের হাত ও মুখ খোলা রেখে  সাধারণ পোষাক পড়তে হয় । হজ্জপালনকারিন নখ কাটা, শরীরের কোন অংশ কামানো, যৌন সম্পর্ক করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, গাছপালা নষ্ট করা, প্রাণী হত্যা করা, মাথা (পুরুষ) বা মুখ ও হাত ( নারী) ঢেকে রাখা, বিয়ে করা , অস্ত্র বহন করা থেকে বিরত থাকতে হয়।ইহরামের পোশাক মৃত্যুর কাফনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

মসজিদে হারামে পৌঁছনোর পর হজযাত্রীরা হাতীমে কাবার উত্তর দিকের আবর্তন কালো পাথরে চুম্বন বা স্পশৃ দিয়ে তাওয়াফ করেন। এসময় পাথরের দিকে ইশারা করে এবং একটি প্রার্থনা (তালবিয়া) পাঠ করেন।তাওয়াব শেষে মসজিদের অভ্যন্তরে কাবার কাছে ইব্রহিমের স্থানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা হয়। নামজের পর জমজম কূপ থেকে পানি পান করেন। তাওয়াফরের পর সাফা ও মারওয়াহ পাহাড়ের মধ্যে সাত বার  হাঁটতে হয়।সাঈ করার পরে পুরুষ হজযাত্রীরা চুল কামিয়ে নেন বা চুল ছোট করেন। মহিলারা সাধারণত চুলের একটি অংশ কাটেন। সকালে নামাজের পর হাজীরা মুজদালিফা থেকে মিনাের চলে যায়। মিনায় শয়তানকে প্রতীকি পাথর ছুড়ে মারেন। শয়তানকে পাথর ছুড়ে মারার পর পশু কুরবানি দেওয়া হয়।

সম্পর্কিত খবর

;