জাতীয় সংসদে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক ৩১টি বিল পাস, বিরোধী দলের প্রতীকী ওয়াকআউট

প্রকাশ : 10 Apr 2026
জাতীয় সংসদে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক ৩১টি বিল পাস,  বিরোধী দলের প্রতীকী ওয়াকআউট

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে প্রতীকী ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার অধিবেশন চলাকালে বিকেল ৫টা ৫৬মিনিটে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান গণবিরোধী বিল পাসের অভিযোগ এনে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন এবং অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। মাগরিবের নামাজের পর অধিবেশন শুরু হলে তারা সংসদে ফিরে আসেন। এদিন রেকর্ড সংখ্যক ৩১টি বিল পাস হয়েছে।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিষ্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল-২০২৬’ উত্থাপন করা হয়। এতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আপত্তি জানালেও তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে দাড়িয়ে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, বিরোধী দলের যৌক্তিক বাধা স্বত্তেও যে কয়টি গণবিরোধী বিল আজকে পাস হয়েছে আমরা তার দায় নিতে চাই না। তাই আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।

এর আগে বিলটির ওপর আলোচনাকালে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে দিয়ে সেখানে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের বসানোর কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এখন সেটাই করা হচ্ছে। নির্বাচন না দিয়ে দলীয় লোকজন দিয়ে স্থানীয় সরকার পরিচালনা করা হচ্ছে।

জবাবে বিলটি উত্থাপনকারী প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই আইন সংশোধন করা না হলে ফ্যাসিস্ট শক্তি ফিরে আসার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি এই সংশোধনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। বর্তমান সরকার দ্রুত নির্বাচনও দিয়ে দিবে।

ওয়াকআউটের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, আমি ধন্যবাদ জানানোর জন্য উঠছি। আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ফাস্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিং, সব রিডিংয়ে উনারা সহায়তা করেছেন। কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও দিয়েছেন। সমস্ত প্রক্রিয়া অংশ নেওয়ার পরে ওয়াকআউটের কোন মানে আছে কি না, এটা জানার জন্য। সমস্ত প্রক্রিয়া তারা অংশ নিয়েছে এ জন্য ধন্যবাদ। আশা করি, মাগরিবের নামাজের পর তারা আবার অংশ নেবেন।

অধিবেশনে ফিরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ থেকে ওয়াকআউট করা কোনো ‘অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কিনা’? জবাবে ডেপুটি স্পিকার বলেন, আমরা সকলে জানি এটা ডেমোক্রেটিক রাইটস অ্যান্ড প্র্যাকটিস। পরে শফিকুর রহমান বলেন, তা আমাদের রাইটস আছে। সেই রাইটসের বলে আমরা যা উপযুক্ত মনে করেছি আমরা আগের আলোচনায়, আমরা সেরকমই করেছি। বিরোধীদল কক্ষ ত্যাগ করার পর যদি ‘ডেরোগেটরি কমেন্ট’ (অবমাননাকর মন্তব্য) করা হয়, তাহলে পরিবেশ ক্ষুন্ন হয়।

এদিকে গতকাল অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্য থেকে কোন পরিবর্তন ছাড়াই ২৮টি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। অধ্যাদেশ রহিত করে আরো তিনটি বিল পাস করা হয়েছে। বিলগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও মন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রীরা উত্থাপন করেন। 

পাস হওয়া বিলগুলো হচ্ছে, ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ শ্রম সংশোধন বিল, ২০২৬’, ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ গ্যাস (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন বিল, ২০২৬’, ‘বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন বিল, ২০২৬’, ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ বিল, ২০২৬’, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিত ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরী কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল ২০২৬’, স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন (এমেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ এবং ‘নেগুশিয়েবল ইনষ্টুমেন্ট (এমেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’।


সম্পর্কিত খবর

;