লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

প্রকাশ : 27 Jul 2026
লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর বড় মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স পুনর্বহালের প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ২৭ মে হাসপাতালটির পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একই দিনে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা, অক্সিজেন স্বল্পতা ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়ার পর গত ১১ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) আবু হোসাইন মো. মঈনুল আহসানের স্বাক্ষরিত আদেশে জানানো হয়, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ এর ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিল করা হলো। তবে অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ রাখা হয়।


এই ঘটনায় জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সেন্ট্রাল এসি বন্ধ থাকা, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের অভাব এবং অন-ডিউটি চিকিৎসক না থাকার কারণে হাইপারক্যাপনিয়া ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিষক্রিয়ায় শিশুদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সংসদে জানান, লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্ত হাসপাতাল বন্ধ করার জন্য নয়, বরং স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই নেওয়া হয়েছে।


লাইসেন্স বাতিলের পর আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল আপিল করেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যেসব ত্রুটির কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো সংশোধন করে সচিব বরাবর আবেদন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সরকারের সব শর্ত মানতে সম্মত হওয়ায় সরকারও জনস্বার্থে হাসপাতাল সচল করতে সম্মত হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাসপাতালের এরিয়ায় বেকারি না রাখা, ভবনের কাঠামো সংস্কার, তিন বছর ধরে অগ্নিনিরাপত্তার অনুমোদন ছাড়া পরিচালনার ত্রুটি দূর করা এবং সেন্ট্রাল অক্সিজেন ও এসি ব্যবস্থার সংস্কারসহ বেশকিছু শর্তে লাইসেন্স ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ভাবছে সরকার। এরই মধ্যে হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সরকারি তত্ত্বাবধানে নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


এদিকে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হলেও আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন। তবে মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত ২৯৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থীসহ শত শত শিক্ষার্থী ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস ও ইন্টার্নশিপ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। ভারত ও মালদ্বীপের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের দেশের মেডিকেল কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী ইন্টার্নশিপ নিজ কলেজের হাসপাতালেই করতে হয়। অন্য হাসপাতালে করলে তা স্বীকৃতি পাবে না।


দীর্ঘদিন স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির সেবা বন্ধ থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং শর্ত পূরণ সাপেক্ষে লাইসেন্স পুনর্বহাল করে দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।


সম্পর্কিত খবর

;