২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট

প্রকাশ : 02 Jun 2025
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট

স্টাফ রিপোর্টার: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এবারের বাজেটের সম্ভাব্য বাজেট ধরা হয় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এ হিসেবে গত অর্থবছরের তুলনায় বাজেটের আকার কমেছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৭লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। 

এবারে বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসুচি বা এডিপি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এটিও গত বিদায়ী অর্থবছরের চেয়ে কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে এডিপি ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। 

এবার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারন করা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জোগান দেবে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৮৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য খাত থেকে আসবে ৬৫ হাজার কোটি টাকা বা মোট লক্ষ্যমাত্রার ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে জিডিপির ৩ দশমিক ৬২ ভাগ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণ থেকে াাসবে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বা মোট ঘাটতির ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ । আর বিদেশী ঋণ থেকে আসবে ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা বা ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

বাজেট পরিচালনা ব্যয় বিদায়ী অর্থবছরের চেয়ে কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে পরিচালন ব্যয় ছিল ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। এবার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬০ হাজার হাজার কোটি টাকা। এর ৫৭ ভাগই যাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও ঋণ পরিশোধে। নতুন বাজেটে সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য ১০ থেকে ২০ ভাগ মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করা হয়েছে।

বাজেটে পুঁজিবাজারে তারিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর কমতে পারে ২ দশমিক ৫ ভাগ। এতে এসব প্রতিষ্ঠানের কর নামবে ২০ শতাংশে। তবে অপরিবর্তিত থাকছে পুঁজিবাজরের বাইরে প্রতিষ্ঠানের করহার। এসব প্রতিষ্ঠানকে আগের মতই ২৭ দশমিক ৫ ভাগ কর দিতে হবে। এছাড়া পুঁজিবাজারে ব্রােকারেজ হাউজের সিকিউরিটিজ লেনদেন কর শূন্য দশমিক শুণ্য ৫ শতাংশ থেকে কমে শূণ্য দশমিক শূণ্র ৩ শতাংশ। মার্চেন্ট ব্যাংকের করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে হচ্ছে ২৭ দশমিক ৫ ।

গেলবছরের মতো এবারও কালোটাকা সাদা করা সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া অপ্রদর্শিত অর্থ প্রতিরোধে, প্রকৃত মূল্যে রেজিস্ট্রেশন নিশ্চিতে করহার এলাকাভেদে ৮, ৬ ও ৪ শতাংশের পরিবর্তে কমে হচ্ছে যথাক্রমে ৬, ৪ ও ৩ শতাংশ।

বাজেটে জিডিপির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছর জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। সাময়িক হিসাবে অর্জিত হয়েছে ৩ দশমিক ৯৭ ভাগ। 


বাজেটে মূল্যস্ফীতি কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটেও সার্বিক মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। গত এপ্রিলের হিসেবে দেমের বর্তমান সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।


করমুক্ত ব্যক্তি আয় সীমা

এবারের বাজেটে ব্যক্তি করমুক্থ আয়সীমায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অর্থাৎ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় থাকলেই একজন ব্যক্তিকে আয়কর দিতে হবে। নারী ও ৬৫ বছরের বেশী বয়সীদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪৩ লাখ টাকা। আর প্রতিবন্ধীদের জন্য ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

এছাড়া গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কর আয়সীমা ৫ লাখ টাকা। এবারের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমায় নতুন যুক্ত হয়েছেন 'জুলাই যোদ্ধারা'। তাদের করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।


২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকার প্রায় ৯৫ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে পারে, যা মোট বাজেটের ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্ধ ছিল ৯০ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা, যা ছিল মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।


দাম বেড়েছে যেসব পণ্য ও সেবার 

বাজেট বেশ কিছু পণ্য ও সেবার দাম বেড়েছে। এর মধ্যে  রয়েছে কনভেনশন হল, নির্মাণ খাত, সেল্ফ কপি পেপার, কোটেড পেপার, ই-কর্মাস কমিশন।

এছাড়াও প্লাস্টিক সামগ্রী, গৃহস্থালি সামগ্রী, টয়লেট সামগ্রী, কটন সূতা, কৃত্রিম সুতা, ব্লেড, জয়েন্ট, নাট, বোল্ট, ইলেকট্রিক লাইন হার্ডওয়্যার ও সিকারেট কিনতে ভোক্তাদের আগের চেয়ে বেশি মুল্য পরিশোধ করতে হবে।

দাম বাড়ছে ওটিটি সেবা, এলইডি লাইট, আমদানিকৃত লিফট, সিফুড, নারিকেল তেল, স্যালমন ফিস, আমদাকৃত মাংস, আমদানিকৃত টুনা, লবঙ্গ, এলাচ, জিরা, দারচিনি, মাখন, দুগ্ধজাত পণ্য, চিজ, বিদেশি সবজি, কাজু বাদাম, শুকনা ফল, আপেল ও নাশপাতি।

বেশি দামে আরও যা কিনতে হবে রড, কফি, চকলেট, শিশু খাদ্য, পাস্তা, বিস্কুট, চিপস, জ্যাম-জেরি, জুস ও সস।


এছাড়া দেশি তৈরী মোবাইল ফোন, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রােওয়েভ ওবেন, ইলেকটরিক ওভেন, ব্লেন্ডার, জুসার ও মিক্সারের দাম বাড়ছে। 

দাম বাড়ছে মার্বেল-গ্রানাইট, অ্যালকোহল, ফুড সাপ্লিমেন্ট, তামাক জাতীয় পণ্য, বিদেশি লবণ, আইসক্রিম , বার্নিশ, সুগন্ধি, এলপিজি সিলিন্ডার, অটো রিকশা, প্রসাধনী, সাবান, ডিটারজেন্ট।


দাম কমেছে যেসব পণ্য ও সেবার

এবার আগের বছরের তুলকায় বেশ কিছু পণ্য ও সেবার দাম কমেছে। এরমধ্যে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ, শিল্পের কাঁচামাল, এলএনজি, সিলিন্ডার, দেশি স্যানিটারি ন্যাপকিন, দেশি ডায়াপার, প্যাকটকৃত তরল দুধ, বল পয়েন্ট, ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত কম্পিউটর মনিটর, রেন্ট, হাসপাতালের বেড, ওষুধের কাঁচামাল, হাসপাতারের যন্ত্রাংশ, কোল্ড স্টোরেজ, এলপিজি সিরিন্ডার, ব্যাটারি, কীটনাশক, ফ্রুট ব্যাগ, টায়ার ও সার।


আরও খাতে করহার কমেছে 

রিসাইক্লিং শিল্পে কাঁচামাল সরবাহের কর ৩ শতাংশ কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ । গ্যাস বিতরণ কোম্পানীর উৎসকর  ২ শতাংশ থেকে কমে শূণ্য দশমিক ৬ শতাংশ, জ্বালানি তেল রিফাইনারি কোম্পানির উৎস কর ২ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১ দশমিক ৫ এবং ইন্টারনেট সেবার উৎস কর ১০ শতাংশ কমে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। 


এছাড়া বিদ্যুৎ ক্রয়ের উৎস কর ৬ শতাংশ থেকে করা হয়েছে ৪ শতাংশ, সিগারেট কোম্পানির বিক্রির অগ্রিমকর ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ শতাংশ, ব্যক্তি করদাতার টার্নওভারের করমুক্ত সীমা ৩ কোটি থেকে বেড়ে হচ্ছে ৪ কোটি হচ্ছে এবং মোবাইল অপারেটরদের টার্নওভার কর ২ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। 


সম্পর্কিত খবর

;