বুয়েটের শেরে বাংলা হল প্রাঙ্গণে আবরার ফাহাদ স্মৃতিফলক উন্মোচন

প্রকাশ : 07 Oct 2025
বুয়েটের শেরে বাংলা হল প্রাঙ্গণে আবরার ফাহাদ স্মৃতিফলক উন্মোচন

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে আজ এক বেদনামিশ্রিত ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো শেরে বাংলা হল প্রাঙ্গণ। ২০১৯ সালে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) নির্যাতনে নিহত আবরার ফাহাদের স্মৃতিকে চিরঅম্লান রাখতে হল প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়েছে ‘আবরার ফাহাদ স্মৃতিফলক’। 


আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর ২০২৫) বিকেল ৩টায় বুয়েটের শেরে বাংলা হল চত্বরে শেরে বাংলা হল এলামনাই এসোসিয়েশনের উদ্যোগে নির্মিত আবরার ফাহাদ স্মৃতিফলকের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্মৃতিফলকটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আবরার ফাহাদের সাহস, ন্যায় ও আদর্শের প্রতি অঙ্গীকারকে ধারণ করে নির্মিত এই স্মৃতিফলক ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অনুপ্রাণিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজক ও উপস্থিত সবার।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বুয়েট শেরে বাংলা হলের এলামনাই ও দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রকৌশলী আবুল হায়াত, শেরে বাংলা হল এলামনাই এসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আশিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেরে বাংলা হল এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী রেজাউল করিম।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান আবরার ফাহাদের পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বেদনা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের আজ দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে—এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার সামান্যতম পুনরাবৃত্তিও যেন আর কখনও না ঘটে। এটি শুধু প্রশাসনের পক্ষ থেকে নয়, শিক্ষার্থী সমাজের পক্ষ থেকেও প্রতিজ্ঞা। একইসঙ্গে, দেশের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যারা যুক্ত, তারাও প্রতিজ্ঞা করবেন—আর কোনো শিক্ষার্থী যেন প্রতিবাদের কারণে মৃত্যুর মুখে পতিত না হয়।”


তিনি বলেন, “আবরার ফাহাদ সাহসিকতার সঙ্গে সত্য কথা বলেছিল। নির্ভীকভাবে পানি চুক্তি নিয়ে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছিল বলেই তাকে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে। আজ যে স্মৃতিফলক উন্মোচন করা হয়েছে, সেটি কেবল একটি প্রতীক নয়—এটি সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো, প্রতিবাদের স্বরূপ ধারণ করা এবং দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত রাখার অঙ্গীকার।”


উপাচার্য আরও বলেন, “দেশের মঙ্গল সাধনের জন্য ভয় পাওয়া যাবে না—আবরার তার জীবন দিয়ে আমাদের সেই শিক্ষা দিয়েছে। তাই আজ আমাদেরও শপথ নিতে হবে দেশপ্রেম, সত্য প্রকাশ ও ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠার পথে অবিচল থাকার।”


তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “বুয়েটে লেজুড়ভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তা নিষিদ্ধই থাকবে। যেকোনো ব্যানারে এ ধরনের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করা হলে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আমি প্রত্যাশা করি, তোমরা সকলে সতর্ক দৃষ্টি রাখবে যেন কোনোভাবে এই ধরনের রাজনীতি বুয়েটে প্রবেশ করতে না পারে।”


দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবরার ফাহাদের স্মৃতিকে সংরক্ষণের জন্য একটি স্মৃতিফলক স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সেই প্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই স্মৃতিফলক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। গঠিত কমিটির মাধ্যমে স্মৃতিফলকের নকশা চূড়ান্ত করে গত ৭ 




অক্টোবর ২০২৩ সালে শেরে বাংলা হল প্রাঙ্গণেই নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। শেরে বাংলা হল এলামনাই এসোসিয়েশনের আর্থিক সহায়তায় স্মৃতিফলকটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।


আবরার ফাহাদ বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ভোররাতে শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) কয়েকজন নেতা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। আজ সেই নৃশংস ঘটনার ৬ষ্ঠ বার্ষিকী।


স্মৃতিফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধানগণ, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন দপ্তর ও পরিদপ্তরের পরিচালকবৃন্দ, উপদেষ্টা মণ্ডলী, হল প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্টবৃন্দ, শেরে বাংলা হল এলামনাই এসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দসহ হলের ছাত্র, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


মরহুম আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বাদ আসর বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।


সম্পর্কিত খবর

;