উজিরপুরে অবাদে অতিথি পাখি বিক্রি, ১ জনকে আটক করে বনবিভাগ। পাখি অবমুক্ত

প্রকাশ : 18 Oct 2025
উজিরপুরে অবাদে অতিথি পাখি বিক্রি, ১ জনকে আটক করে বনবিভাগ। পাখি অবমুক্ত

উজিরপুর প্রতিনিধিঃ প্রতি বছর শীতের মৌসুম শুরু হলেই খাবারের খোঁজে হাজার হাজার অতিথি পাখি ছুটে আসে বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন বিলাঅঞ্চলে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একদল পাখি শিকারী বিভিন্ন ফাঁদ পেতে শত শত ধরে বিক্রি করে। গোপন সংবাদের ভীক্তিতে ১৮ অক্টোবর শনিবার সকালে উপজেলার মশাং বাজার এলাকা থেকে ২১ টি দেশি প্রজাতির ও অতিথি পাখি উদ্ধার করে উপজেলা  বন বিভাগ। এসময় ২১ বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি সহ ১ জনকে আটক করে। এ সময় উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে  বন প্রহরী বদিউজ্জামান হাওলাদার বাদল গ্রাম পুলিশ মোহাম্মদ সেলিম শেখ উপস্থিত ছিলেন। 

 পাখি শিকারি ও বিক্রেতা সুশীল বিশ্বাস (৬৫)কে আটক করে উপজেলা সদরে নিয়ে আসেন।

 এরপরে বিভিন্ন আইনে জটিলতার কারণে পাখিগুলি অবমুক্ত করার জন্য বন কর্মকর্তা বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে থাকে। পরে গৌরনদী বন রেঞ্জ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বিশ্বাসের ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজার সহায়তায় পাখিগুলি অবমুক্তর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের হাজী ব্রিক্স এর নিকটবর্তী সন্ধ্যা নদীর চরে পাখিগুলোকে অবমুক্ত করেন গৌরনদী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম ও উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির। এসময় উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর মডেল থানার এস আই মোঃ আলমগীর হোসেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আঃ রহিম সরদার, দপ্তর সম্পাদক জুনায়েদ খান সিয়াম, বন প্রহরী বদিউজ্জামান বাদল সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


এসময় গৌরনদী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, প্রকৃতিতে শীতের আমেজ শুরু হতেই রঙ-বেরংয়ের অতিথি পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে থাকে উজিরপুরের বিলাঞ্চলসহ স্থানীয় চরাঞ্চলগুলো। দেখা মেলে সাদা বপাতিহাঁস,মাছরাঙ্গা, সারস, পানকৌরীসহ দেশি বিদেশি অসংখ্য পাখি। দিগন্তজোড়া উন্মুক্ত হাওয়ায় পাখা মেলে বিল ও চরাঞ্চলের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত উড়াউড়ি করে। খাবারের খোঁজে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে আশ্রয় নেয় স্থানগুলোতে। পাখি প্রকৃতির সম্পদ। যদি কেউ প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্টের চেষ্টা করে তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃতিতে স্বাধীনভাবে বিচরণ করা পাখির অধিকার। বাজারগুলোতে যেভাবে অসংখ্য পাখি জালে ও খাঁচায় বন্দি করে বিক্রি করা হয় তা শুধু বেআইনি নয়, নিষ্ঠুরও বটে!  তিনি আরো জানান, উদ্ধার করা পাখিগুলো প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে। সব নাগরিককে পাখি কেনাবেচা ও খাঁচায় পোষা থেকে বিরত থাকতে এবং এ ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এসময় আটক ব্যাক্তিকে মুসলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সম্পর্কিত খবর

;