উজিরপুরের দক্ষিণ সাতলা–নয়াকান্দী বাজার সেতু এখন মরণফাঁদ : ঝুঁকিতে পারাপার

প্রকাশ : 12 Apr 2026
উজিরপুরের দক্ষিণ সাতলা–নয়াকান্দী বাজার সেতু এখন মরণফাঁদ : ঝুঁকিতে পারাপার

উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ  বরিশালের উজিরপুর উপজেলার দক্ষিণ সাতলা–নয়াকান্দী বাজার সংযোগ সড়কের ওপর নির্মিত সেতুটি বর্তমানে স্থানীয় জনগণের জন্য এক ভয়ংকর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এই সেতু দিয়ে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন।


সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির দুই পাশের রেলিং ভাঙা, কোথাও কোথাও ভেঙে গেছে এবং বড় বড় ফাটল ধরেছে। সরু ও জরাজীর্ণ এই সেতু দিয়ে একসঙ্গে দুটি যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে সাইড দিতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে মালবাহী পিকআপ, নছিমন, টমটমসহ বিভিন্ন যানবাহন পারাপারের সময় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আজিজুল শিকদারের স্ত্রী, সোনা মিয়া খান্ডা ও রতনসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া এক বৃদ্ধা সেতু থেকে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যুবরণ করেন বলেও জানান এলাকাবাসী।


ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, স্বাধীনতার পর এই এলাকায় পারাপারের একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। পরে ১৯৯৮ সালের দিকে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে তৎকালীন সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক অভির উদ্যোগে হারতা, সাতলা ও নয়াকান্দী বাজার সংযোগে প্রায় ২৯০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই ঢালাই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারি উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার কাজ হয়নি।


যদিও কয়েক বছর আগে স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে আংশিক সংস্কার করা হয়েছিল, তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। বর্তমানে সেতুটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।


নয়াকান্দী বাজারের ফার্মাসিস্ট মোঃ মনিরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, “সাতলা, শিবপুর ও রাজাপুরসহ আশপাশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য এই সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে ধান ও মাছের মৌসুমে ভারী যানবাহন চলাচল বাড়লে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।”


এলাকাবাসীর একটাই দাবি—আর কোনো প্রাণহানির আগে দ্রুত এই সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে কর।

সম্পর্কিত খবর

;