স্টাফ রিপোর্টার: কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) বর্তমান প্রশাসকের অপসারণ এবং অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত তলবি সাধারণ সভা পণ্ড হয়ে গেছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। সভায় সভাপতিত্ব করা নিয়ে দুই পক্ষের বিবাদ ও হট্টগোলের জেরে একপর্যায়ে সভাটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বেলা ১২টায় সভার কার্যক্রম শুরু হলে প্রথমেই সভাপতিত্ব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। উপস্থিত সিনিয়র সদস্যরা ইনস্টিটিউশনের সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ কৃষিবিদ ইব্রাহিম খলিলের নাম প্রস্তাব করেন। তবে একাংশ এর বিরোধিতা করে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য কৃষিবিদ গোলাম হাফিজ কেনেডির নাম প্রস্তাব করে।
এ নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় এগ্রিকালচারালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব যুগবার্তাকে জানান, সভার সভাপতির বিষয়ে সিনিয়র কৃষিবিদরা সিদ্ধান্ত দিতে না পারলে, এ্যাবের নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত দেবেন। এ সময় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা ও এ্যাবের যুগ্ম আহবায়ক শফিকুল ইসলাম শফিক আপত্তি তুলে বলেন, এটি এ্যাবের কোনো দলীয় অনুষ্ঠান নয়, তাই এ্যাবের সিদ্ধান্ত তিনি মানবেন না।
সভায় উপস্থিত কৃষিবিদ টিপু জানান, সভার একপর্যায়ে শফিকুল ইসলাম শফিক, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের খামার তত্ত্বাবধায়ক লুৎফুর রহমান মৃদুল, জিবরাইল শরীফ, আহসান হাবিব রানু ও শফিকুল ইসলাম নোবেল উপস্থিত কয়েকজন সিনিয়র কৃষিবিদের সাথে অসদাচরণ করেন। এতে সাধারণ কৃষিবিদদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। টিপু জানান, এরা সবাই কৃষিবিদ গোলাম হাফিজ কেনেডির অনুসারী।
কৃষিবিদ কে আই এফ সবুর যুগবার্তাকে বলেন, যারা বর্তমান প্রশাসকের অনিয়মের সুবিধাভোগী, তারাই পরিকল্পিতভাবে বহিরাগতদের নিয়ে এসে সভাটি পণ্ড করেছে। তারা চায় না কেআইবি স্বচ্ছতার সাথে পরিচালিত হোক।
জানা গেছে, এর আগেও কেআইবির বর্তমান প্রশাসক লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব খানের অনিয়মের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন সাধারণ কৃষিবিদরা। এছাড়া এই প্রশাসকের বিরুদ্ধে তৎকালীন সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি ও লিখিত অভিযোগ দেন তারা। এসব অভিযোগে কৃষিবিদরা জানান, কেআইবির বর্তমান প্রশাসক বিধি অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন না দিয়ে পাঁচ দফা মেয়াদ বাড়িয়ে নেন। এবার ৬ষ্ঠ দফায় মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন তিনি। পাঁচ দফায় বেতন ও অন্যান্য ভাতাসহ ৩৭ লাখ টাকা নেন তিনি। এছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিজের ইচ্ছেমতো সাতজনকে চাকরি দেন। যাদের বেতনভাতা বর্তমান স্থায়ী কর্মকর্তাদের দ্বিগুণের চেয়ে বেশি। টেন্ডার ছাড়াই পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে কোটি কোটি টাকার মেরামত কাজ করানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে এ্যাবের সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব বলেন, বর্তমান প্রশাসক গত ১৩ মাসে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা সম্মানী নিয়েছেন, অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছেন এবং নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। তাকে সরিয়ে প্রকৃত কৃষিবিদদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্যই এই সভা ডাকা হয়েছিল। কিন্তু একটি গোষ্ঠী হট্টগোল সৃষ্টি করে সিনিয়রদের লাঞ্ছিত করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সভাটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি জানান, পরবর্তীতে সকলের সাথে আলোচনা করে সভার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
মেয়াদ বাড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে কেআইবির প্রশাসক লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব খান যুগবার্তাকে বলেন, আমিতো বাড়াইনি। সরকার আমাকে নিয়োগ দিয়েছে, সরকারই মেয়াদ বাড়াচ্ছে। এছাড়া নির্বাচন করার জন্য কমিশন গঠন করেছিলাম। নির্বাচন করার চেষ্টাও করেছি কিন্তু নির্বাচন করতে পারিনি। টেন্ডার ছাড়াই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এই অভিযোগ সত্য নয়। আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ সাবেক সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা বরাবর দিয়েছিল। তখনই এসব অভিযোগ সমাধান হয়েছে।
উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার দক্ষিণ সাতলা–নয়াকান্দী বাজার সংযোগ সড়কের ওপর নির্মিত সেতুটি বর্তমানে স্থানীয় জনগণের জন্য এক ভয়ংকর মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেল ...
স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত মোট ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দ ...
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্রীড়াদল সাতক্ষীরা জেলার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে বিগত আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ক্রীড়াদ ...
সব মন্তব্য
No Comments