ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত,বৈরী আবহাওয়াতেও মুসল্লিদের ঢল।

প্রকাশ : 21 Mar 2026
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত,বৈরী আবহাওয়াতেও মুসল্লিদের ঢল।

অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ফরিদপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শৃঙ্খলা ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলার প্রধান ঈদের জামাত। হালকা বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশের মধ্যেও বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে জেলার ঐতিহ্যবাহী চানমারি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ পরিণত হয় এক অনন্য মিলনমেলায়।


শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা ঈদগাহ মাঠে সমবেত হন। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে অনেকেই ছাতা হাতে নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করতে আসেন। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় জেলার কিছু এলাকায় খোলা ঈদগাহের পরিবর্তে মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজন করা হলেও চানমাড়ি ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত প্রধান জামাতে মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।


জেলার প্রধান এই জামাতে ইমামতি করেন শাহ ফরিদ জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ। নামাজ শেষে তিনি দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় উপস্থিত মুসল্লিরা গভীর আবেগ ও আন্তরিকতায় মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনায় অংশ নেন।


ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জামাতে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।


ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করেন, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন। মাঠের পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় জেলা প্রশাসনের তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো।


ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শিশু-কিশোরদের মাঝে ছিল উৎসবের উচ্ছ্বাস, অনেকে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে দ্রুত বাড়ির পথে রওনা দেন।


নামাজ শেষে শিশু-কিশোরদের মাঝে ছিল উৎসবের বিশাল উচ্ছ্বাস। এক শিশু আনন্দের সঙ্গে বলল, “আজ ঈদ! নতুন জামা পরেছি। বাবা-মার সঙ্গে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। বৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু আনন্দ কমেনি। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করেও মজা লাগছে।”


বৃষ্টির মধ্যেও ঈদের নামাজে অংশ নিয়ে এক মুসল্লি বলেন, “হালকা বৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু ঈদের আনন্দ কমেনি। ছাতা হাতে আসা সত্ত্বেও সবাই উৎসাহের সঙ্গে নামাজ পড়েছে। ঈদের দিনে সবাই একসঙ্গে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”


নামাজ শেষে ৮৪ বছরের বৃদ্ধ মুসল্লি রমজান শেখ বলেন, “এই বয়সে ও বৃষ্টি-ঝাপটা সব উপেক্ষা করে ঈদের নামাজ পড়তে আসতে পারা এক অন্যরকম আনন্দ। আল্লাহর দরবারে সবাই একসাথে দোয়া করতে পেরে মনটা শান্তি আর খুশিতে ভরে গেছে। ঈদ মানেই সত্যিই মিলনমেলা, শান্তি আর ভ্রাতৃত্বের বার্তা।”


এদিকে ঈদের জামাত শেষে জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লা বলেন, বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও সবাই একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারায় তিনি আনন্দিত। তিনি এদিনের আনন্দকে ধারণ করে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।


সবমিলিয়ে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় চেতনায় উদ্ভাসিত এক উৎসবমুখর পরিবেশে ফরিদপুরে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।


সম্পর্কিত খবর

;