শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সিআইডির রিপোর্ট তদন্ত কর্মকর্তাকে হস্তান্তর

প্রকাশ : 23 May 2026
শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সিআইডির রিপোর্ট তদন্ত কর্মকর্তাকে হস্তান্তর

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার ৭ বছরের শিশু রামিসার ডিএনএ প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার বিকেলে সব ফরেনসিক রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার হাতে তুলে দেওয়া হয়।


সিআইডি জানায়, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংগৃহীত ডিএনএ, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা রিপোর্ট সম্পন্ন করে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসব রিপোর্ট মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হবে।


এদিকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান শনিবার দুপুরে বলেন, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ডিএনএ রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পেলে ঈদের আগেই চার্জশিট দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘ডিএনএ না করে চার্জশিট দেওয়া হলে বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এ ধরনের মামলায় ডিএনএ খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ’।


উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, ওইদিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান তিনি। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে এবং সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে।


এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সোহেল ও স্বপ্নাকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যায়। পরে রামিসার মা ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মেয়ের মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতিতে মাথা দেখতে পান।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান বুধবার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক আসামি স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, কীভাবে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছেন, সোহেল তার জবানবন্দিতে তার বর্ণনা দিয়েছেন এবং দোষ স্বীকার করেছেন।


সম্পর্কিত খবর

;