‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাওয়া যাবে নগদ টাকা

প্রকাশ : 20 Feb 2026
‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাওয়া যাবে নগদ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার: নবনির্বাচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের উদ্যোগে দেশের প্রায় পাঁচ কোটি পরিবারকে ধাপে ধাপে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।


বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন জানান, প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে হতদরিদ্র পরিবার ও নারী সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।


পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, আসন্ন ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে কর্মসূচিটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে হতদরিদ্র পরিবারগুলো এ সুবিধা পাবে, পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দরিদ্র পরিবার অন্তর্ভুক্ত হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে বিষয়টি উল্লেখ ছিল এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।


সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির মধ্যেও ফ্যামিলি কার্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্বাচনের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে এ কর্মসূচি চালু করা হবে। এর আওতায় প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।


ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিটি উপযুক্ত নকশা প্রণয়ন, সুবিধাভোগী বাছাইয়ের মানদণ্ড নির্ধারণ এবং তথ্যভাণ্ডার তৈরির সুপারিশ করবে। কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সদস্যদের মধ্যে আছেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা।


সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা থাকবে না এবং মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগও থাকবে না। কার্ড সরাসরি পরিবারের নারী সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোও অব্যাহত থাকবে।


প্রথম পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য তথ্যভাণ্ডারের সমন্বয়ে একটি ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদন দ্রুত প্রস্তুত করে কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হবে।

সম্পর্কিত খবর

;