অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করল ইরান

প্রকাশ : 12 Jul 2026
অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সিতে আইআরজিসি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহে তৃতীয় দফায় ইরানে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফার হামলা শুরু হয়। হামলায় ১৪০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সাইট, নৌ-সম্পদ, গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র। 


সেন্টকমের ভাষ্য, আইআরজিসি বাহিনী ‘প্রকাশ্যে’ হামলা চালিয়ে জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে মারাত্মক ক্ষতি করেছে এবং আগুন ধরে যাওয়ায় জাহাজটি যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারেনি। এ ঘটনায় একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন। সেন্টকম আরও বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলার জন্য জবাবদিহির পরও সমঝোতা স্মারক মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ইরানকে, কিন্তু তারা আবারও তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের হামলার সক্ষমতা কমাতে ‘ভারী মূল্য’ আদায় করছে। 


যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্সে লিখেছেন, ‘ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তাদের এর মূল্য দিতে হবে’। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। 


এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শনিবার রাতে ঘোষণা দেয়, ‘অনুমোদিত নয়’ এমন রুটে চলাচলের চেষ্টা করায় একটি জাহাজে সতর্কতামূলক গুলি চালিয়ে থামানো হয়েছে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করা হলো। আইআরজিসি জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত’ প্রণালি বন্ধ থাকবে এবং যেকোনো জাহাজ প্রবেশের চেষ্টা করলে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ‘আগ্রাসী পদক্ষেপ’ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নতুন ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালানো হবে। 


ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে জাহাজটিকে থামানো হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথ উন্মুক্ত রাখতে হামলা চালানো হয়েছে এবং ইরানের দাবি অনুযায়ী প্রণালি বন্ধ হয়নি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত আছে। 


চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। গত ৬ জুলাই থেকে তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়। ইরানের দাবি, তাদের নির্ধারিত রুটই একমাত্র ‘নিরাপদ’ পথ এবং ওমানের জলসীমা ঘেঁষে যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ করা নৌপথ অনিরাপদ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ১৭ জন নিহত ও ১১৫ জন আহত হওয়ার দাবি করেছে তেহরান। পাল্টা জবাবে ইরান বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। 


হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন হয়। প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ও পাল্টাপাল্টি হামলায় আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে দাবি জানানো হয়েছে যেন তারা প্রকাশ্যে প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দেয় এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেয়। 


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তবে আলোচনা এখনও চলবে এবং সমঝোতা পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা করছেন মধ্যস্থতাকারীরা। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে যে তেলবাহী জাহাজে হামলা ভুলবশত হয়েছে এবং এর জন্য দেশটির ভেতরের একটি নিয়ন্ত্রণহীন গোষ্ঠী দায়ী। 


সম্পর্কিত খবর

;