চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ৭ জেলায় ভারী বর্ষণ কমে এলেও এখনো নিম্নাঞ্চল পানির নিচে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির ৮০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। কক্সবাজারে ১৫০টি গ্রাম এবং চট্টগ্রামে ৩ উপজেলায় কয়েক লাখ মানুষ এখনো পানিতে তলিয়ে থাকা বাড়িঘরে অবস্থান করছেন।
টানা ৬ দিন ধরে পানিবন্দি থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বানভাসিরা। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু এলাকায়। চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, হালিশহরসহ নিচু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও সড়ক প্লাবিত হয়েছে। কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, টেকনাফ ও উখিয়ায় দুই হাজারের বেশি ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকায় নদীপাড়ের অনেক এলাকা নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যা মোকাবিলায় ১০৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৪১, কক্সবাজারে ৬৪০, রাঙ্গামাটিতে ২১, খাগড়াছড়িতে ১৩৫ ও বান্দরবানে ২২০টি। চট্টগ্রামের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ৮ হাজার ৩৪০ জন, রাঙ্গামাটিতে ১২৬ জন, খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৭৫৫ জন ও বান্দরবানে ২ হাজার ১৭৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। চট্টগ্রামের ৭ উপজেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রশাসন শুকনো খাবারসহ ত্রাণ সহায়তার কথা জানালেও দুর্গতদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকলেও বিতরণে ধীরগতি। কক্সবাজারে ৪০টি ইউনিয়নের পানিবন্দিদের দুর্ভোগ চরমে, অনেকেই খাদ্য সহায়তা পাননি বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বানভাসিদের আকুতি ও প্রার্থনার পাশাপাশি ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, জুলাই মাসের প্রথম সাত দিনে কক্সবাজারে ৬৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সতর্ক করেছে, ৫ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও জোয়ারের পানি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পানি নামতে সময় লাগছে। নিচু এলাকার ঘরবাড়ি, সড়ক, ফসলি জমি এখনো পানির নিচে। ফটিকছড়ি উপজেলায় ১৪ হাজার ৫৮০ হেক্টর আমন ধানের চারা ও ৮৫০ হেক্টর আউশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। স্থানীয়রা দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানো, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি অসুস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে রাজধানীর শ্যামলীর ...
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর যানজট নিরসন, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং পাইকারি বাজার ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জে প্রস্তাবিত আধুনিক বহুতল বাস টার্মিনাল এবং মিরপুর গা ...
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রায় ২০ বছর পর ঢাকার আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ময়লার ভাগাড় অপসারণ, দুর্গন্ধমুক্তকরণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়েছে।শনিবার ...
চট্টগ্রাম অফিস: বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের বাকিছড়া এলাকায় একটি বেইলি সেতু ধসে পড়ায় রাঙ্গামাটির সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে দুই পার্বত্য জেলার হাজারো মানুষ ...
সব মন্তব্য
No Comments