স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক স্পিকার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী। ৯৩ বছর বয়সেও তিনি দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর গোলাপবাগ সমাবেশে হুইলচেয়ারে উপস্থিত হয়েছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, যদিও সেদিন তিনি বক্তব্য দেননি।
ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মৌলভী মুহম্মদ আজিজ বক্স এবং মা বেগম ফখরুন্নেছা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে বিএ অনার্স ও এমএ এবং পরে এলএলবি পাস করেন। ১৯৬১ সালে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল সনদ লাভ করেন তিনি।
১৯৬০ সালের ২৭ মে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্ট থেকে সনদ নিয়ে আইন পেশায় যোগ দেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুনামের সঙ্গে আইন পেশা পরিচালনা করেছেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী আইনজীবীদের একজন ছিলেন তিনি।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন। পরবর্তীতে ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের সমর্থক ছিলেন। আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মাওলানা ভাসানীর সহচর ছিলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমন্ত্রণে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত পাঁচবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।
জাগদলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। পঞ্চগড়-১ আসন থেকে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই আসন থেকে এবার তাঁর ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বিভিন্ন সময়ে গণপূর্ত, শিক্ষা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।
আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। ১৯৯০ সালে নিজ এলাকা পঞ্চগড়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বেগম নুর আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। দুই ছেলেই ব্যারিস্টার হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত।
তাঁর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির মহাসচিবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও স্মরণে পোস্ট করেছেন অনেকে। নামাজে জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ৭ জেলায় ভারী বর্ষণ কমে এলেও এখনো নিম্নাঞ্চল পানির নিচে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ...
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি অসুস্থ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে রাজধানীর শ্যামলীর ...
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর যানজট নিরসন, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং পাইকারি বাজার ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে কেরানীগঞ্জে প্রস্তাবিত আধুনিক বহুতল বাস টার্মিনাল এবং মিরপুর গা ...
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রায় ২০ বছর পর ঢাকার আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ময়লার ভাগাড় অপসারণ, দুর্গন্ধমুক্তকরণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়েছে।শনিবার ...
সব মন্তব্য
No Comments