২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে, শুরু ৮ জানুয়ারি

প্রকাশ : 03 Sep 2026
২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে, শুরু ৮ জানুয়ারি

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমা তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের (জুবায়েরপন্থী) অধীনে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি। দুই পর্বই টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।


বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তাবলীগ জামাতের প্রতিনিধিদের সাথে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তারিখ ঘোষণা করেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং বিশ্ব ইজতেমা সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজনে সরকার বদ্ধপরিকর। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটিয়ে তাবলীগ জামাতের উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ইজতেমা আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে।


বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি ও তারিখ নির্ধারণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তাবলীগ জামাতের সাদপন্থী অংশের মুরুব্বিদের সাথে আজকের বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়েছে। এর আগে গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জুবায়েরপন্থী অংশের প্রতিনিধিদের সাথেও অনুরূপ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সবার মতামত বিবেচনা করে ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রথম পর্ব ৮, ৯ ও ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।


ইজতেমার স্থান ও অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, উভয় পক্ষই টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন। বিগত সরকারের সময় জুবায়েরপন্থী ও সাদপন্থীদের মধ্যে একমত হওয়ার ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্ত স্বাক্ষরিত হয়েছিল যে সাদপন্থী অনুসারীরা টঙ্গী ময়দানে ইজতেমা করবেন না। তবে আজকের আলোচনায় সাদপন্থী প্রতিনিধিরা সেই সিদ্ধান্তের প্রতি দ্বিমত পোষণ করে সেখানে তাদের অংশগ্রহণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তারা দুই পর্বের ইজতেমা শেষের পর থেকে রমজানের আগে অথবা নভেম্বরের শেষ দিকে একটি যৌক্তিক সময় গ্যাপ দিয়ে টঙ্গী ময়দানে এক পর্বে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন।


মন্ত্রী জানান, সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের সাথে আরও আলোচনা করে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। অর্থাৎ সাদপন্থীদের ইজতেমার ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।


মাওলানা সাদ সাহেবের আগমনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিষয়টি ভিসা নীতি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।


এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে বিগত সময়ের তুলনায় দেশের সামগ্রিক অপরাধ চিত্র অনেক নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রাপ্ত কেন্দ্রভিত্তিক ও জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী হত্যা, অপহরণ, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের হার হ্রাস পেয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি রাজধানীতে এক শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধারের কথা তুলে ধরেন।


সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। এছাড়া স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তাবলীগ জামাতের (সাদপন্থী) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সম্পর্কিত খবর

;