কারাবন্দিদের ভোটাধিকার: নির্বাচনী ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

প্রকাশ : 07 Feb 2026
কারাবন্দিদের ভোটাধিকার: নির্বাচনী ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারাগারে আটক বন্দিরা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগের আওতায় দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা নিবন্ধিত বন্দিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছেন।


কারা কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত চলে। এ সময়ের মধ্যে মোট ৫ হাজার ৯৯০ জন নিবন্ধিত বন্দির মধ্যে ৪ হাজার ৬৭ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। শনিবার এই কার্যক্রমের শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা ভোট দেবেন না, তাদের ভোট বাতিল বলে গণ্য হবে।


এই নির্বাচনের পাশাপাশি বন্দিরা দেশের চলমান সংস্কার ইস্যুতে অনুষ্ঠিত গণভোটেও অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে উভয় ভোট একসঙ্গে গ্রহণ করা হচ্ছে।


এই ভোট কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন কারাগারে আটক একাধিক সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় অর্ধশত ভিআইপি বন্দি ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেছেন।


কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৩৯ জন উচ্চ-প্রোফাইল বন্দি ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।


নিবন্ধিত ভিআইপি বন্দিদের মধ্যে ২২ জন রাজনৈতিক নেতা, ১১ জন সাবেক সচিব এবং পাঁচজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।


কেরানীগঞ্জ বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ তায়েফ উদ্দিন জানান, ঢাকা বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৮৯ জন। পরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে স্থানান্তরিত আরও ১৩ জন যুক্ত হওয়ায় মোট ভোটার দাঁড়ায় ১০২ জনে।


এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫৫ জন ভোট দিয়েছেন। ভোট প্রদানকারীদের মধ্যে ৪৩ জন সাধারণ কয়েদি এবং ১২ জন শ্রেণিভুক্ত ও বিশেষ বন্দি। বিশেষ বন্দিদের মধ্যে তিনজন রাজনৈতিক বন্দি এবং নয়জন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। রাজনৈতিক বন্দিদের মধ্যে দুজন সাবেক সংসদ সদস্য ও একজন সাবেক মন্ত্রী বলে জানা গেছে।


কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাকে নির্বাচন কমিশন গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে ভোটাধিকার ও নাগরিক অধিকার প্রসারের ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সম্পর্কিত খবর

;