'তৌহিদী জনতার' বাধায় যশোরে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফাইনাল বন্ধ

প্রকাশ : 20 Jul 2026
'তৌহিদী জনতার' বাধায় যশোরে বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফাইনাল বন্ধ

যশোর অফিস: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনাল উপলক্ষে যশোর শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত বড় পর্দায় খেলা দেখানোর উদ্যোগ ‘তৌহিদী জনতা’র বাধার মুখে ভেস্তে গেছে। রবিবার রাতে মাঠে বড় স্ক্রিন বসানোর কাজ শুরুর পর স্থানীয় একদল ব্যক্তি ‘ভিনদেশি পতাকা ও সংস্কৃতির প্রচার’ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করলে আয়োজকরা প্রদর্শনী বাতিল করতে বাধ্য হন।


আয়োজক সূত্র জানায়, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বড় স্ক্রিন, ডিজিটাল বিলবোর্ড ও মনিটরের মাধ্যমে সরাসরি বিশ্বকাপ ম্যাচ সম্প্রচারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে যশোরের ঈদগাহ মাঠে বড় পর্দায় স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখানোর প্রস্তুতি নেয় স্থানীয় একটি ক্রীড়া সংগঠন। মাঠে স্ক্রিন ও সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের সময় রাত ৯টার দিকে শতাধিক ব্যক্তি ‘কলেমা খচিত পতাকা’ হাতে মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন।


বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘ভিনদেশি পতাকা’ উত্তোলন ও উৎসবের নামে ‘বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রচার’ চলছে, যা ইসলামী মূল্যবোধের পরিপন্থী। তারা ‘তৌহিদী জনতা’ ব্যানারে শোভাযাত্রা করে ঈদগাহ মাঠের মতো ধর্মীয় স্থানে খেলা দেখানো বন্ধের আহ্বান জানান। বিক্ষোভের সময় তারা স্লোগান দেন, ঈদগাহ মাঠে কোনো বিনোদনমূলক প্রদর্শনী করা যাবে না।


পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়। প্রশাসনের অনুরোধে এবং ‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে’ আয়োজকরা রাত ১০টার দিকে বড় পর্দা প্রদর্শনী স্থগিতের ঘোষণা দেন। যশোর কোতোয়ালি থানার এক কর্মকর্তা জানান, কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পেলেও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ ঘিরে দেশজুড়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা যাচ্ছে। ফরিদপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় বড় পতাকা উত্তোলন ও শোভাযাত্রা হয়েছে। তবে সম্প্রতি ‘ভিনদেশি পতাকার প্রতিবাদে কলেমা খচিত পতাকা নিয়ে তৌহিদী জনতার শোভাযাত্রা’র খবরও গণমাধ্যমে এসেছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দেশের মানুষের আবেগের কথা বিবেচনা করে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর উদ্যোগে সরকার সহযোগিতা করবে। কিন্তু যশোরের ঘটনায় স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।


আয়োজক কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘আমরা শুধু খেলা দেখানোর আয়োজন করেছিলাম, কোনো পতাকা বা রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। তবুও ধর্মীয় অনুভূতির কথা বিবেচনা করে আপাতত কর্মসূচি বাতিল করেছি।’ এদিকে বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, ‘ঈদগাহ মাঠ নামাজের জায়গা। এখানে রাতভর মাইক বাজিয়ে খেলা দেখালে ইবাদতের পরিবেশ নষ্ট হয়। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের অবস্থান জানিয়েছি।’


যশোরে বিশ্বকাপের আবহ থাকলেও ফাইনালের রাতে বড় পর্দায় খেলা দেখতে না পেরে অনেক সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, পরবর্তীতে বিকল্প ভেন্যুতে প্রদর্শনীর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে ঈদগাহ মাঠে এ ধরনের আয়োজন আর হবে না।


সম্পর্কিত খবর

;