ঢাকায় অবতরণ করল রোমে আটকে থাকা বিমানের সেই ফ্লাইট

প্রকাশ : 09 Aug 2026
ঢাকায় অবতরণ করল রোমে আটকে থাকা বিমানের সেই ফ্লাইট

স্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে ঢাকায় ফিরেছে রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ৪০ ঘণ্টা আটকে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০৬ ফ্লাইট। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ২৪৭ জন যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


বিমানের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টার দিকে রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে বিজি-৩০৬। বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে রোম ছাড়ার পর প্রায় ১০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে রোববার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছায় ফ্লাইটটি।


বিজি-৩০৬ ফ্লাইটটি কানাডার টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে টরন্টো ছাড়ে ফ্লাইটটি। এতে আড়াই শতাধিক যাত্রী ছিলেন।


প্রায় আট ঘণ্টা আকাশে ওড়ার পর জ্বালানি নেওয়ার জন্য বিমানটি ইতালির রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে টেকনিক্যাল ল্যান্ডিং করে। নিয়মিত এই স্টপেজের পর ঢাকার উদ্দেশে আবার উড্ডয়নের কথা ছিল। কিন্তু রোমে পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। ফলে নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটটি আর ঢাকার উদ্দেশে উড়তে পারেনি।


ফ্লাইটটি ছিল বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার। এ ধরনের উড়োজাহাজই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহৃত হয়।


যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফ্লাইটটি দীর্ঘ সময় রোমে গ্রাউন্ডেড থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর অবশেষে উড়োজাহাজটি আবার উড্ডয়নের উপযোগী হয়।


দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে যাত্রীদের বড় একটি অংশকে রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরেই থাকতে হয়। যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যাত্রীদের কয়েকজনের বর্ণনা অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় তাদের বিমানবন্দর এলাকায় অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়েছে।


তবে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।


ফ্লাইটটি দ্রুত সচল করতে ঢাকায় থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশলী দলকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জামসহ রোমে পাঠানো হয়।


শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১১টার দিকে একটি ফ্লাইটে প্রকৌশলীরা রোমে পৌঁছান। এরপর তারা উড়োজাহাজটির কারিগরি পরীক্ষা ও মেরামতের কাজ শুরু করেন। প্রয়োজনীয় মেরামত শেষে বিমানটি আবার উড্ডয়নের উপযোগী করা হয়।


এরপর স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টার দিকে বিজি-৩০৬ ঢাকার উদ্দেশে রোম ছাড়ে। দীর্ঘ যাত্রা শেষে রোববার দুপুরে নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছান আটকে থাকা যাত্রীরা।


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইটটিতে মোট ২৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তারা সবাই একই উড়োজাহাজে করে ঢাকায় ফেরেন।


ফ্লাইটটির আসনসংখ্যা ও নির্ধারিত রুটের তথ্য অনুযায়ী, বিজি-৩০৬ টরন্টো-রোম-ঢাকা রুটে পরিচালিত একটি দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইট। বিমানটি কানাডা থেকে বাংলাদেশে আসার পথে রোমকে টেকনিক্যাল স্টপ হিসেবে ব্যবহার করে। বিমানের টরন্টো-ঢাকা রুটে রোম হয়ে যাতায়াতের এই ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে।


টরন্টো-ঢাকা রুটের এই ফ্লাইটে রোমকে জ্বালানি নেওয়ার জন্য স্টপেজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিমানের পক্ষ থেকে আগেও জানানো হয়েছিল, উত্তর আমেরিকাগামী ফ্লাইটে জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সুবিধার জন্য রোমকে স্টপওভার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে ফ্লাইট পরিচালনার ব্যয় ও রুট ব্যবস্থাপনায় সুবিধা পাওয়া যায়।


সাধারণত টেকনিক্যাল ল্যান্ডিংয়ের পর জ্বালানি নেওয়া ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করে ফ্লাইট আবার গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু এবারের ঘটনায় রোমে পৌঁছানোর পর যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত হওয়ায় সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।


শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজটি মেরামত করে নিরাপদে ঢাকায় ফিরতে পারায় স্বস্তি ফিরেছে যাত্রী ও স্বজনদের মধ্যে। তবে প্রায় দুই দিন রোমে আটকে থাকার কারণে যাত্রীদের যে দুর্ভোগ হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীসেবা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে।


বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুলসংখ্যক যাত্রী আটকে পড়লে তাদের খাবার, বিশ্রাম, থাকার ব্যবস্থা, তথ্য প্রদান এবং বিকল্প পরিবহনের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।


রোমে আটকে পড়া যাত্রীদের কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। সেখানে দীর্ঘ অপেক্ষা, পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়া এবং যাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা উঠে এসেছে। তবে এসব ব্যক্তিগত অভিযোগের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


রোমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আটকে পড়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও রোম-ঢাকা রুটে বিমানের উড়োজাহাজ যান্ত্রিক সমস্যার কারণে গ্রাউন্ডেড হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।


২০২৫ সালের আগস্টে রোম থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশের একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের উইং ফ্ল্যাপে ত্রুটি ধরা পড়েছিল। তখন ফ্লাইটটি বাতিল হয়ে ২৬২ জন যাত্রী আটকা পড়েছিলেন। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ লন্ডন থেকে পাঠিয়ে পরে উড়োজাহাজটি মেরামত করা হয়েছিল।


তবে এবারের বিজি-৩০৬ ফ্লাইটের যান্ত্রিক ত্রুটি ঠিক কী ধরনের ছিল, সে বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কারিগরি ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।


প্রায় দুই দিনের অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির পর রোববার দুপুরে ঢাকার মাটিতে পা রাখেন বিজি-৩০৬-এর ২৪৭ যাত্রী। দীর্ঘ সময় রোমে আটকে থাকার পর নিরাপদে দেশে ফিরতে পারায় যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।


ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা, তথ্য সরবরাহ এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে এখনো এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ কারিগরি প্রতিবেদন বা যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। সেটি প্রকাশ হলে যান্ত্রিক ত্রুটির প্রকৃতি, মেরামতের প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘ বিলম্বের কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।

সম্পর্কিত খবর

;