অবাধ তথ্যপ্রবাহে ‘ক্লিন ইনফরমেশন’ নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : 02 May 2026
অবাধ তথ্যপ্রবাহে ‘ক্লিন ইনফরমেশন’ নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হলে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের কোনো বিকল্প নেই—এমনটাই মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, তথ্যের স্বাধীনতা যেমন জরুরি, তেমনি অপতথ্য রোধ করে পরিচ্ছন্ন তথ্য নিশ্চিত করাই এখন সমাজ ও রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

শনিবার রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি-তে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ সভ্যতার জন্য অক্সিজেনের মতো অপরিহার্য। সঠিক তথ্য ছাড়া কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র টেকসই হতে পারে না। ভুল তথ্য বা ডিস-ইনফরমেশন সমাজকে ধীরে ধীরে বিষিয়ে তোলে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল যুগে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও নির্ভুল তথ্যের ঘাটতি স্পষ্ট। মিস-ইনফরমেশন ও ডিজিটাল হ্যাজার্ড এখন বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু আইন নয়, বরং সৃজনশীল জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ জরুরি।

রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতিতে জবাবদিহিতার অভাবের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, তথ্যপ্রবাহ অবাধ রাখার পাশাপাশি এর মান নিশ্চিত করতে একটি উন্নত নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রয়োজন। সরকার নিজেকে নিয়ন্ত্রক নয়, বরং সেবাদানকারী হিসেবে দেখছে এবং সঠিক তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

সঠিক তথ্য ও মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ প্রণয়নের কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার, সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, এবং নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী।

নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে মূলধারার গণমাধ্যম সংকটে, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এতে করে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলোই শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিডিয়া, কমিউনিকেশন ও জার্নালিজম বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ.এস.এম রেজওয়ান-উল-আলম।

সেমিনারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে দেশের সাংবাদিকতা খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং নানা প্রস্তাব তুলে ধরেন।

সম্পর্কিত খবর

;