রাত পোহালেই ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন, ৫ প্রার্থীর লড়াই

প্রকাশ : 29 Oct 2026
রাত পোহালেই ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন, ৫ প্রার্থীর লড়াই



রাত পোহালেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।


কেন এই উপনির্বাচন? ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। তিনি গত ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। শূন্য আসন পূরণে এই উপনির্বাচনের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন।


ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। এছাড়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ২৮৭ জন ভোটার। তাদের মধ্যে ২৯ জন প্রবাসী এবং ২৫৮ জন দেশে অবস্থানরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ভোটার।


মোট প্রার্থী ৫ জন। এই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন 'ধানের শীষ' প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন লড়ছেন 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীক নিয়ে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. আব্দুল আলিম নিজামী 'বটগাছ', ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম 'হাতপাখা' এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হোসাইন মোহাম্মদ ওমর ফারুক 'ডাব' প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।


প্রচারণা শেষ হয়েছে গত ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টায়। এরপর থেকে প্রার্থীদের প্রচারণা বন্ধ রয়েছে।


প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন? জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ১১৫টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়।


নির্বাচন কমিশন থেকে বহিরাগতদের আসন এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।


এদিকে গত ২৮ অক্টোবর দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে ১১ দলীয় ঐক্য ঠাকুরগাঁওয়ে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবিও জানানো হয়।


সম্পর্কিত খবর

;