স্বাস্থ্যসেবায় সচেতনতা বাড়াতে ফরিদপুরে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন।

প্রকাশ : 07 Apr 2026
স্বাস্থ্যসেবায় সচেতনতা বাড়াতে ফরিদপুরে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন।

অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: “স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ”—এই সময়োপযোগী প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে ফরিদপুরে উদযাপিত হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। দিবসটি ঘিরে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিষয়ক বার্তা পৌঁছে দিতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। 

দিবসটি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের আয়োজনে সকালে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে। পরবর্তীতে ফরিদপুর সদর হাসপাতালের কনফারেন্স কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।


জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কামরুল হাসান মোল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম।


আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য প্রদান করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী, বিএমএ ফরিদপুরের সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান শামীম, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আওলাদ হোসেন বাবর, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. আলী আকবর বিশ্বাস, প্রকৌশলী আদনান হোসেন অনু, ফরিদপুর পৌরসভার সাবেক ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলাওল হোসেন তনু, জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আজমল ফুয়াদ এবং জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সেনেটারি ইন্সপেক্টর ও জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ বজলুর রশিদ খান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ আল আমিন সারওয়ার। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ আশিকুজ্জামান সুজন।


আলোচনা পর্বে বক্তারা দেশের স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।তারা জোর দিয়ে বলেন, "সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও রোগীদের জন্য মানসম্মত ও নৈতিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।" রোগীরা যেন কোনো ধরনের প্রতারণা বা অনিয়মের শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।


বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, অবৈধ দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার ঘটানোর বিষয়েও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করে দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করা, দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ বাড়ানো, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধে কঠোর নজরদারি জোরদার এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


এ সময় বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

সম্পর্কিত খবর

;