সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরে আগাম ঈদ উদযাপন।

প্রকাশ : 20 Mar 2026
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরে আগাম ঈদ উদযাপন।

অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও সদরপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। 


শুক্রবার (২০ মার্চ) দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসরণ করে এসব এলাকার বাসিন্দারা একদিন আগে রোজা শুরু করেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের অন্তত ৯টি গ্রাম এবং আলফাডাঙ্গা উপজেলার কয়েকটি গ্রামে এদিন ঈদ উদযাপন করা হয়। এসব গ্রামের মধ্যে কাঁটাগড়, সহস্রাইল, দরিসহস্রাইল, মাইটকুমড়া, রাখালতলী, গঙ্গানন্দপুরসহ আরও কয়েকটি গ্রাম উল্লেখযোগ্য।


শুক্রবার সকালে বোয়ালমারী উপজেলার মাইটকুমড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সকাল ৮টায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় মাইটকুমড়া জামে মসজিদ মাঠে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সকাল সাড়ে ৯টায় সহস্রাইল বাজারে এবং সকাল ১০টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলার রাখালতলী বাজারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।


স্থানীয় ভাবে ঈদের দিন (শুক্রবার) সকাল থেকেই এসব এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করতে দেখা যায়। বাড়িতে বাড়িতে তৈরি করা হয়েছে ঈদের বিশেষ খাবার, আর নতুন পোশাকে শিশু-কিশোরদের আনন্দও ছিল চোখে পড়ার মতো।


কিছু এলাকার স্থানীয়রা জানান, তারা চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মাহমুদাবাদ মির্জাখীল দরবার শরিফের মাওলানা শামসুল আরেফিনের অনুসারী। সেই সূত্রে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপনের প্রথা চলে আসছে।


আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহিদুল হক বলেন, “মির্জাখিল দরবার শরিফের অনুসারীরা সৌদি আরবের চাঁদ দেখার সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে থাকেন। এ কারণে প্রতি বছরই আমরা একদিন আগে ঈদের জামাত আদায় করি। আমাদের এ জামাতে সালথা, মুহম্মদপুর, মুকসুদপুর ও আলফাডাঙ্গাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা অংশ নেন।”


স্থানীয়দের মতে, সহস্রাইল উত্তরপাড়া জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতটি এলাকায় সবচেয়ে বড় সমাবেশ হিসেবে পরিচিত। গ্রামের বাসিন্দা বিশু মোল্যা জানান, প্রায় দেড়শ বছর ধরে সহস্রাইল উত্তরপাড়া জামে মসজিদে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায়ের রীতি চালু রয়েছে। আরেক বাসিন্দা দিল্লুর রহমান বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই আমরা একদিন আগে রোজা শুরু করি এবং সেই অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করি।”


এদিকে একই দিনে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামেও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। রথখোলা বাজার সংলগ্ন মরহুম আলী হোসেন শাহ—যিনি স্থানীয়ভাবে ‘আলী সাহেব পীর’ নামে পরিচিত—তার বাড়ির মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন তার দৌহিত্র মো. রবিউল হাসান মোস্তাক শাহ।


জানা যায়, প্রায় সাত থেকে আট দশক আগে মরহুম আলী হোসেন শাহ ভারতের আজমীর শরীফে গিয়ে সেখানকার একজন মুরিদ হন। সেখানে দীর্ঘদিন অবস্থান শেষে দেশে ফিরে এসে তিনি ওই আদর্শ অনুসরণে স্থানীয়ভাবে কিছু অনুসারী গড়ে তোলেন। বর্তমানে ওই এলাকায় প্রায় ২০ থেকে ২৫টি পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রমজান ও দুই ঈদ উদযাপন করে আসছেন।


স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এসব এলাকায় বহু বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের এই প্রথা চলে আসছে।

সম্পর্কিত খবর

;