ডিএমপি কার্যালয় অভিমুখে হকার্স ইউনিয়নের বিক্ষোভ

প্রকাশ : 17 Apr 2026
ডিএমপি কার্যালয় অভিমুখে হকার্স ইউনিয়নের বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার:  ঢাকাসহ সারাদেশে চলমান বলপূর্বক শ্রমজীবী হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশ থেকে অবিলম্বে পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ বন্ধ, প্রকৃত হকারদের তালিকা প্রণয়ন, লাইসেন্স প্রদান এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সড়ক ও ফুটপাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। 

বৃহস্পতিবার (আজ ১৬ এপ্রিল ২০২৬) বেলা ১১টায়, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হাশেম কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের উপদেষ্টা জলি তালুকদার, হকার্স ইউনিয়নের কার্যকরি সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সহ-সভাপতি শহীদ খান, আফসার উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিমউদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা মো. ফিরোজ, আনিসুর রহমান পাটোয়ারি, শাহীনা আক্তার প্রমুখ। 

সমাবেশে জলি তালুকদার বলেন, ঢাকা শহরের বহু সংকট বিদ্যমান। যানজট একটি বড় সমস্যা। কিন্তু তার চেয়েও মারাত্মক সংকট হচ্ছে মানুষের কর্মসংস্থান। হকাররা স্বনিয়োজিত হয়ে নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। শুধু তাই নয়, কয়েক লাখ হকার অনানুষ্ঠানিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। এই হকারদের অবদানের প্রতি কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আমরা দেখি না। উপরন্তু তাদের ওপরে কয়েকদিন পর পর হামলা, উচ্ছেদ, ভাঙচুর, আটক, নির্যাতন চলে। তিনি বলেন, সব সরকারের আমলেই হকার উচ্ছেদের নামে নিরীহ শ্রমজীবী মানুষের ওপর জুলুম চালানো হয়। বর্তমান সরকারের আমলেও তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে না। অথচ মানুষের প্রত্যাশা ছিল, হকারসহ শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার সুরক্ষার জন্য নতুন সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বাস্তবে পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে সরকার গণবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছে। 

বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হাশেম কবির বলেন, সামনে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা, হকাররা ইতোমধ্যে ঈদকে সামনে রেখে মালামাল তুলেছে। সাধারণভাবে প্রায় সকল হকারই ঋণ করে রিক্ত অবস্থায় আছে। এই অবস্থায় পুনর্বাসনের কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ ছাড়া, হকার উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকলে হকারদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।  

সমাবেশ শেষে ডিএমপি কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হলে কদম ফোঁয়ারায় পুলিশ বাধা প্রদান করে। এসময় ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ডিএমপি কার্যালয়ে গিয়ে কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাতে মিলিত হন। সাক্ষাৎকালে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করাসহ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও স্থায়ী ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত হকারদের জীবিকা নিশ্চিত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। 


সম্পর্কিত খবর

;