বিশ্বিবদ্যালয় প্রতিনিধি: বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ এর নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী রবিবার ৫ এপ্রিল ২০২৬ইং তারিখ অপরাহ্নে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন এবং আজ সোমবার ৬ এপ্রিল ২০২৬ইং তারিখ সকালে তাঁর প্রথম কর্ম দিবস শুরু করেন। নবনিযুক্ত উপাচার্য মহোদয় প্রথম কর্মদিবসে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করেন এবং দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। প্রথম কর্মদিবসের শুরুতে মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের কার্যালয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্যকে অত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সদ্য সাবেক উপাচার্য (অস্থায়ী) এর পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় সদ্য সাবেক (অস্থায়ী) উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম, প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ, ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ সাইফুল আজম রঞ্জু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, আজকের দিনটি আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিষ্ঠানে আমি ইনটার্নশিপ করেছি। আরপি, হোস্টেল সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপালন করেছি। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের যেমন সুনাম আছে তেমন নানাবিধ সমস্যাও আছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গণমানুষের প্রত্যাশা অনেক। সমস্যা সমূহ সমাধানের মাধ্যমে গণমানুষের সেই প্রত্যাশাকে পূরণ করতে হবে। সবাইকে একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন, যে যে পদে চাকুরী করেন সেই পদের কাজ ও দায়িত্ব কি কি সেটা উপলব্ধি করে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে মনোযোগী হতে হবে। যার যে দায়িত্ব সেটা সঠিকভাবে পালন করলেই বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাবে।
এসময় সদ্য সাবেক (অস্থায়ী) উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম তার বক্তব্যে নবনিযুক্ত উপাচার্য মহোদয়ের সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও গবেষণা কার্যক্রম সামনে দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নবনিযুক্ত উপাচার্য মহোদয়কে বিএমইউ এর সম্মানিত জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষকবৃন্দ, অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
এরপর নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপ-উপাচার্যগণ, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, ডিনবৃন্দ, কোর্স ডাইরেক্টরগণ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, মেডিক্যাল অফিসার এবং কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় করেন। বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দের সাথে মতবিনিময়ে মাননীয় উপাচার্য বলেন, চ্যালেঞ্জিং অবস্থার মধ্য থেকেই বিদ্যমান জনবলের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। প্রত্যেক মাসে বিভাগের কর্মকান্ডের অগ্রগতি ও মূল্যায়ন করতে হবে।
মেডিক্যাল অফিসারদের উদ্দেশ্যে বলেন, রোগীদের চিকিৎসা সেবার শুরুর ভিত্তি হলো মেডিক্যাল অফিসারগণ। মেডিক্যাল অফিসারগণ চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে রোগীদের প্রতি চিকিৎসকদের মনোভাবের প্রতিফলন বহন করেন। ব্যক্তি জীবনে, কর্মস্থলে যত সমস্যা ও দুঃখ কষ্ট থাক না কেন রোগীদেরকে হাসিমুখে সেবা প্রদান করতে হবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, চিকিৎসা শিক্ষা, সেবা ও গবেষণার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আমাকে এখানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনার থেকে ভাইস-চ্যান্সেলর সকলেরই একটি ধ্যানে থাকতে হবে তা হলো সঠিকভাবে প্রত্যেক এর কাজটি যথাসময়ে পালন করা। শৃঙ্খলা বজায় রেখে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। রোগীসহ সকলের সাথে হাসিমুখে ভালো ব্যবহার করতে হবে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই একটি দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিগত কঠিন সময়ে দেশে যখন ন্যায় বিচার ছিল না, মেধার মূল্যায়ন ছিল না তখনও আমি নির্ভয়ে কথা বলেছি, আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছি। আমি মহান আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পাই না। আমার সাহসের মূল বিষয় হলো সততা। তাই আমি চাই এখানে কর্মরত সকলে শৃঙ্খলার সাথে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করবে।
এছাড়াও মাননীয় উপাচার্য মহোদয় প্রথম কর্ম দিবসে বহির্বিভাগে রোগীদের সেবা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে রাউন্ড দেন এবং কেবিন ব্লকে চিকিৎসাধীন সফলভাবে হওয়া কিডনী ট্রান্সপ্যান্টের এক রোগীর চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ ২০২৬ইং তারিখে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সঞ্জীব দাশ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্য এর সানুগ্রহ অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯৮ (২০২৫ সনের ১২ নং অধ্যাদেশ বলে সংশোধিত) এর ১২ ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, প্রাক্তন অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা-কে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো। উপাচার্য হিসেবে তাঁর নিযুক্তির মেয়াদ যোগদানের তারিখ হতে ০৪ (চার) বছর হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী ১৯৮২ সালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। পরবর্তীতে সাবেক আইপিজিএমএআর থেকে ইনটার্নশিপ সম্পন্ন করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি বিসিপিএস থেকে মেডিসিন বিষয়ে এফসিপিএস ডিগ্রী অর্জন করেন।
উচ্চতর শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ্যাসিট্যান্ট রেজিস্ট্রার এবং রেজিস্ট্রার অফ মেডিসিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি ময়মনসিংহ সদর হাসপাতালে কনসালট্যান্ট অফ মেডিসিন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত সাবেক আপিজিএমআর বর্তমান বিএমইউতে রেসিডেন্ট ফিজিশিয়ান্স এবং মেডিসিন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমাইলোজি, ডিজেসেস কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ (আইইডিসিআর)-এ মেডিসিন বিষয়ে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রফেসর অফ মেডিসিন এবং কনসালটেন্ট ফিজিশিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি একজন সুদক্ষ সাংগঠনিক হিসেবে ২০০২-২০০৮ সালে বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন এর সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত ফেডারেশন অফ মেডিক্যাল টিচার্স এ্যাসোসিয়েশন এর জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে তিনি ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের সাউদাম্পটন জেনারেল হাসপাতালে কমনওয়েলথ স্কলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর মেডিক্যাল শিক্ষার ক্ষেত্রে ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর চিকিৎসা শিক্ষায় তাঁর রয়েছে বৈচিত্র্যময় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তিনি এফসিপিএস এবং এমডি প্রশিক্ষাণার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদানে একজন স্বনামধন্য গুণী শিক্ষক হিসেবে অবদান রেখেছেন। তিনি দীর্ঘদিন মেন্টর হিসেবে ক্লিনিক্যাল বিচার-বিবেচনা, নৈতিক চর্চাসহ বাংলাদেশের চিকিৎসকদের একাডেমিক উন্নয়ন বিরাট অবদান রেখেছেন। সম্পাদনার ক্ষেত্রে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ জার্নাল এর চীফ এডিটর এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল জার্নাল এর এ্যাসিট্যান্ট এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গবেষণা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত শতাধিক গবেষণা প্রকাশনাসমূহের লেখক। তিনি জাতীয় ক্লিনিক্যাল ও জনস্বাস্থ্য গাইড লাইন তৈরিতেও বিশেষ অবদান রেখেছেন। এছাড়া ইন্টারন্যাল মেডিসিন, পালমোলজি বা শ্বাসতন্ত্র বিষয়ক চিকিৎসায় বিশেষ অবদান রাখার সাথে সাথে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে অবদান রাখা এবং এ বিষয়ে আরো কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাঁর রয়েছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন এবং আমেরিকান কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এর নিবিড় সম্পর্ক। বর্তমানে তিনি ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা, একাডেমিক শিক্ষাদান, গবেষণা পরামর্শ ও মেন্টরশিপে সক্রিয় অবদান রেখে চলছেন। সম্পাদনা: ডা. সাইফুল আজম রঞ্জু। ছবি: মোঃ আরিফ খান। নিউজ: প্রশান্ত মজুমদার।
রাহাদ সুমন বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
...
স্টাফ রিপোর্টার: শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করে আবারও সপ্তাহে ছয় দিন শ্রেণিকক্ষ খোলা রাখার বিষয়ে ভাবনা চলছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ...
স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ৭ জুন থেকে সারাদেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমকে তিনি এ তথ্য নিশ্চ ...
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম আজ সোমবার দুপুরে শেরে বাংলা ফজলুল হক হল ও মন্নুজান হল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে ...
সব মন্তব্য
No Comments