সারাদেশে মব সন্ত্রাসীর প্রতিবাদে প্রগতিশীল নাগরিকদের প্রতিবাদ বিবৃতি

প্রকাশ : 18 Jan 2026
সারাদেশে মব সন্ত্রাসীর প্রতিবাদে প্রগতিশীল নাগরিকদের প্রতিবাদ বিবৃতি

ডেস্ক রিপোর্ট: আমরা ৪৩ জন প্রগতিশীল নাগরিক গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভের সাথে জানাচ্ছি যে, দেশে একের পর এক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, গুলিবর্ষণ, ধারাবাহিক সহিংসতা, শিক্ষকদের ওপর মব করে হেনস্তা, নারী-শিশু ধর্ষণ নির্যাতন, বিশেষত সংখ্যালঘুদের কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িকতা, সীমান্তে গুলাগুলি, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর ভাঙচুরসহ বিভিন্ন হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব কিছু নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র বলে মনে করছি আমরা।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) শুভ চন্দ্র শীলের পাঠানো বিবৃতিতে বলেন, আমরা বলতে চাই, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ধর্মের নামে একটি বিশেষ গোষ্ঠী দেশের মধ্যে সহিংসতা ও ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিশীল মুক্তমনা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের নামে অপ্রচার ছড়াচ্ছে। আমরা অবিলম্বে সকল প্রকার সাম্প্রদায়িক শক্তির কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানাচ্ছি। এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও বৈষম্যবিরোধী আকাক্সক্ষায় রাষ্ট্র গঠনের দাবি রাখছি।

কিছুদিন আগে ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাস, যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগী, নরসিংদীর শরৎ চক্রবর্তী মণিসহ বেশ কয়েকজন নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামের রাউজানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে ঘরের দরজা বন্ধ করে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আমরা এসব ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছি।

নির্বাচন সময় এবং বর্তমানে দেশের ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুরা সামগ্রিক জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে। তাই আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় অবিলম্বে সরকার এবং প্রশাসনকে নিয়মিত কঠোর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান করছি। আমরা আশা করি, আইনশৃঙ্খলাই বাহিনী এবং সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগই পারে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির জান্তা বাহিনী, আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গা গ্রুপগুলোর ত্রিমুখি সংঘাতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সীমান্তের এপারে বাংলাদেশেও। সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলি বা গোলায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের টেকনাফ এলাকায় গুরুতর আহত হয়েছেন একাধিক বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। আমাদের জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার খবরও মিডিয়া মাধ্যামে জানতে পারছি। আমরা এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলতে চাই- অবিলম্বে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

সম্প্রতি মব সৃষ্টি করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদকে হেনস্তার ঘটনায় আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শিক্ষকদের এভাবে অপমান ও নাজেহাল করা চরম অগণতান্ত্রিক ও উগ্র পন্থার প্রকাশ যা কোন ভাবেই একটি সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। ইতিপূর্বে ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপরও একই রকম নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে এবং একই চিহ্নিত মহল এসব ঘটনা ঘটিয়ে চললেও সরকার প্রশাসন নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক এসব শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটছে বলে আমরা মনে করছি।

এছাড়াও রাজধানীতে দিবালোকে খুন, গুলি, ও রাজনৈতিক কর্মী হত্যার সঙ্গে যারা যারা জড়িত তাদের সবার কঠোর বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। আমরা অবিলম্বে সকল হত্যাকাণ্ড এবং হামলার ঘটনার সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত বিচার দাবি করছি।


সম্পর্কিত খবর

;