বিদায়ী ম্যাচে গোল, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মেসি

প্রকাশ : 07 Oct 2026
বিদায়ী ম্যাচে গোল, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মেসি


স্টাফ রিপোর্টার: ২১ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হয়ে শেষ ম্যাচে আবেগঘন বিদায় নিলেন তিনি। ‘দ্য লাস্ট ট্যাঙ্গো’ নামে পরিচিত এই আয়োজনে ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের ভালোবাসায় সিক্ত হন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। 


নিখুঁত সমাপ্তিতে বিদায়ী ম্যাচে ৩-০ গোলে বেনিনকে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটিতে এক গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে করা গোলটি ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১২৬তম গোল। 


এই ম্যাচ দিয়ে রেকর্ড বাড়িয়ে ২০৮তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেন মেসি। ম্যাচ শেষে তার পরিসংখ্যান দাঁড়াল ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল ও ৬৯ অ্যাসিস্ট। 


ম্যাচের ফলাফল এদিন গৌণ ছিল। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি গোলেই অবদান রাখেন মেসি। ৪৮তম মিনিটে তার নেওয়া কর্নার থেকে ভলিতে গোল করেন বিদায়ী আরেক তারকা নিকোলাস ওটামেন্ডি। ৬১ মিনিটে বাঁ দিক থেকে মেসির বাড়ানো বল থেকে বাঁকানো শটে গোল করেন ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ১০ নম্বর নিকো পাজ। আর ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে শেষ গোলটি করেন মেসি নিজেই। 


১০ মিনিটে মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খেলা এক মিনিট থামিয়ে করতালিতে অভিবাদন জানানো হয়। কিক-অফের আগে মাঠে বিশাল আর্জেন্টিনার জার্সি বিছিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে ১০ নম্বরের ওপরে লেখা ছিল ‘Gracias’।


ম্যাচ শেষে সমর্থকদের উদ্দেশে মেসি বলেন, “২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জার্সি রক্ষা করতে পারা আমার জন্য বিশাল গর্বের বিষয়। আর এখানে না আসাটা ভীষণ কষ্টদায়ক হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমি শপথ করে বলছি, সারা জীবন খেলতে চাই, কারণ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে খেলা একজন মানুষের জীবনে ঘটতে পারে এমন সবচেয়ে সুন্দর বিষয়।”


গত ৩১ আগস্ট আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউ জার্সিতে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের দেড় মাস পর এই ঘোষণা আসে। তখন তিনি লিখেছিলেন, “আমি সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি; দেওয়ার মতো আর কিছুই আমার অবশিষ্ট নেই। তাছাড়া, অসাধারণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা নিজেদের সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।” 


অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই জানিয়ে মেসি বলেন, সর্বশেষ বিশ্বকাপটা তার জন্য অনেক বেশি কঠিন ছিল। এ সময় তার বাবা গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, যা সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। দুই মাস আগে তার বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রত্যাশার চেয়েও আগেই হয়তো বুটজোড়া তুলে রাখতে পারেন। ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তার চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত রয়েছে। 


এদিন মেসি তার তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন। ভিআইপি বক্স থেকে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও মা সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি তাকে শুভেচ্ছা জানান। জাতীয় সংগীতের সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শেষ বাঁশির পর ড্রোন শোতে রাতের আকাশে ভেসে ওঠে মেসির ছবি এবং আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।


ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে বুয়েনস আয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় মেসিকে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করে। রসিকতা করে মেসি বলেন, “আমি বলতে পারব যে আমি একজন সম্মানসূচক ডাক্তার!” এএফএ সদর দপ্তরের বাইরে সমর্থকেরা মেসির ছবি সংবলিত বিশাল পতাকায় লেখেন, “আমার জীবনের আনন্দ।”


বার্সেলোনায় মেসির সাবেক সতীর্থ নেইমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখেন, শুধু আর্জেন্টিনা নয়, ফুটবলের জন্য মেসি যা করেছে তার জন্য পুরো বিশ্ব তাকে ধন্যবাদ জানায়।


২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে ১৮ নম্বর জার্সি পরে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেক হয় মেসির। ২০০৬ সালের ১ মার্চ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম গোল করেন তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি জিতেছেন চারটি বড় শিরোপা, ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা। ২০২২ বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিয়ে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশকে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন রোজারিওর এই ক্ষুদে জাদুকর।


সম্পর্কিত খবর

;