বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ববি শিক্ষার্থীর “আমরণ অনশন”

প্রকাশ : 10 Jul 2024
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ববি শিক্ষার্থীর  “আমরণ অনশন”

বরিশাল অফিস: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) থেকে আজীবন বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছে ২০১৮-১৯ শিক্ষা বর্ষের স্নাতক বাংলা বিভাগের চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থী যাদব কুমার ঘোষ।  বুধবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় ব্যানার টানিয়ে এ কর্মসূচি পালন শুরু করে ওই শিক্ষার্থী।


শিক্ষার্থী যাদব কুমার ঘোষ বলেন, আমাকে অন্যায়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। আমার ভবিষ্যৎ  জীবনের জন্য বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানাই। দাবি না মানা পর্যন্ত আজীবন অনশন চালিয়ে যাবো। 


ওই শিক্ষার্থী উপাচার্য বরাবর দেওেয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সাহিত্য সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকা এবং বিভাগের সংশ্লিষ্টতায় পূজোর আয়োজন করা, অন্য শিক্ষকদের স্নেহভাজন হওয়ায় কোরামগত ক্ষোভসহ বিভিন্ন কারণে শিক্ষক সাকিবুল হাসান তাকে দেখতে পারতোনা। আর সেই ক্ষোভ থেকেই তার বিরুদ্ধে এরকম কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে ওই শিক্ষক সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, যাদব কুমার ঘোষ ৪র্থ বর্ষের দ্বিতীয় মিডটার্ম পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করেন। এ সময়ে প্রধান কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষক মো. সাকিবুল ইসলাম হাতে নাতে ধরে ফেলেন যাদবকে ৷ ওই শিক্ষক তার থেকে উত্তরপত্র নিয়ে যেতে চাইলে, যাদব কুমার ঘোষ উত্তরপত্র নাদিয়ে উলটো শিক্ষকের সাথে জোর জবরদস্তি করার পাশাপাশি শিক্ষকের সাথে অসদাচরণ করেন।  বিষয়টি পরীক্ষা কমিটিকে জানান সহকারী অধ্যাপক সাকিবুল ইসলাম।  


পরবর্তীতে তিনি পরীক্ষা সংক্রান্ত শৃঙ্খলা কমিটির নিকট অভিযোগ দাখিল করেন। এ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা আইনে শিক্ষার্থী যাদব কুমার ঘোষের শাস্তিস্বরূপ তার ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেন। যা  ৪৪ তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় উপস্থাপন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৩ তম সিন্ডিকেট সভায় যাদবের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ পেশ করা হয়। সিন্ডিকেট সভার সুপারিশ অনুযায়ী মঙ্গলবার (৯ জুলাই) তাকে বহিষ্কার করা হয়। 


বহিষ্কারের একদিনের মাথায় ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী যাদব কুমার ঘোষ আমরণ অনশনে বসেছে । তিনি আগের পরীক্ষাগুলোতে কৃতিত্বের সহিত পাশ করার কথা জানিয়ে চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের কথা স্বীকার করলেও শিক্ষকের সাথে অসদাচরণের অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। 


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাকিবুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি মিটিং এ ব্যস্ত রয়েছেন এ নিয়ে পরে কথা বলবেন জানিয়ে মুঠোফেনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। 

সম্পর্কিত খবর

;