মোংলা থেকে মোঃ নূর আলমঃ আজ নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে বাদাবন অঞ্চলের উচ্চ শিক্ষার বাতিঘর মোংলা সরকারি কলেজের ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ১৮ মে রবিবার সকালে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ও কলেজ ম্যাগাজিন ম্যানগ্রোভ’র মোড়ক উন্মোচন করা হবে।
কলেজ সূত্রে জানা যায় ১৯৮১ সালের ১৮ মে কলেজ ক্যাম্পাসের নির্ধারিত জায়গায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন হাওলাদার। ওইদিনকেই ’মোংলা কলেজ’ প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এই ’মোংলা কলেজ’ ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ সরকারিকরণের জি. ও জারির মাধ্যমে ”মোংলা সরকারি কলেজ” নামে পরিচিতি পায়। কলেজের ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, মোংলা সরকারি কলেজের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন সাতজন। এই সাতজন হলেন তৎকালীন মোংলা পোর্ট পৌরসভার চেয়ারম্যান পরবর্তীতে কলেজ গভর্ণিং বডির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল বাতেন, তৎকালীন রামপাল গিলাতলা কলেজের শিক্ষক পরবর্তীতে মোংলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ সুনীল কুমার বিশ্বাস, তৎকালীন সেন্ট পলস উচ্চ বিদালয়ের প্রধান শিক্ষক পরবর্তীতে কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ফ্রান্সিস সুদান হালদার, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীণ সহকারি প্রধান শিক্ষক পরবর্তীতে মোংলা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীরোদ বিহারী পোদ্দার, ডা. সৈয়দ নাজিম আলী, অম্বিকা চরণ বিশ্বাস ও সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের তৎকালীন শিক্ষক শশধর মল্লিক। মোংলা কলেজের এই সাত স্বপ্নদ্রষ্টা ( তারা সবাই বন্ধু ) ১৯৮০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে এক সভায় মিলিত হন। সভায় লিখিত একটি অঙ্গীকারপত্রে এই সাতজন স্বাক্ষর করেন, যাতে লেখা ছিলো ”১০/০৯/১৯৮০ খ্রি. তারিখ সন্ধ্যা ছয় ঘটিকায় সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে সমবেত হইয়া এলাকার উচ্চ শিক্ষার প্রসার ও জনগণের সার্বিক উন্নয়নকল্পে একটি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিলাম।” পরবর্তীতে কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নিতে একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়। এই সাংগঠনিক কমিটির সদস্য হলেন আঃ বাতেন, সুনীল কুমার বিশ্বাস, ফ্রান্সিস সুদান হালদার ও নীরোদ বিহারী পোদ্দার। সাংগঠনিক কমিটি ১৯৮১ সালের ১৫ জনুয়ারি, ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৫ মার্চ ও ২৬ এপ্রিল মোট ৪টি সভা করেন। এই ৪টি সভায় সভাপতিত্ব করেন শহীদ আব্দুল বাতেন। ৪টি সভা পরবতীতে মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের শেলাবুনিয়াতে (বর্তমান কলেজ যেখানে অবস্থিত) ১৯৮১ সালের ১৮ মে তৎকালীণ স্থানীয় সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন হাওলাদার কলেজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯৮১ সালের ১২ জুন মাসে মোংলা কলেজের ৫ম সভায় মানবিক, বিজ্ঞান ও বানিজ্য বিভাগ খোলার এবং কলেজ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৯৮১ সালের জুলাই মাসে ৬ষ্ঠ সভায় অধ্যাপক সুনীল কুমার বিশ্বাসকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় এবং ২৩ সদস্য বিশিষ্ট কলেজ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়। ৫ম ও ৬ষ্ঠ সভায় সভাপতিত্ব করেন শহীদ আব্দুল বাতেন। ১৯৮১ সালের ৩১ জুলাই কলেজ পরিচালনা পর্ষদ’র ১ম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শহীদ আব্দুল বাতেন। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৬জনকে প্রভাষক হিসেবে অস্থায়ী নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। এরা হলেন সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস (বাংলা), এ বি এম এনামুল কবীর ( ইসলামের ইতিহাস ), স্বপন কুমার বিশ্বাস ( ইতিহাস), জালালউদ্দিন আহমেদ (পৌরনীতি), সুশীল কুমার সরকার ( বাংলা) ও সুশান্ত কুমার দাস (পদাথ বিজ্ঞান)। ২০১৬ সালে মোংলা কলেজ সরকারিকরণ হলে সরকারি ভাবে ৪জনকে কলেজ প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গন্য করা হয়। এরা হলেন আব্দুল বাতেন (প্রয়াত ), সুনীল কুমার বিশ্বাস, ফ্রান্সিস সুদান হালদার ও নীরোদ বিহারী পোদ্দার (প্রয়াত)। কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ সুনীল কুমার বিশ্বাস বলেন তৎকালীন পশ্চাদপদ এই মোংলাতে ওই সময়ের পৌরসভার চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন’র সহযোগিতার কারনেই কলেজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। আরেকজন প্রতিষ্ঠাতা ফ্রান্সিস সুদান হালদার বলেন আব্দুল বাতেন’র মতো শিক্ষানুরাগী, চৌকষ বন্ধুবৎসল ব্যক্তির কারনে মোংলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। মোংলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কে এম রব্বানী বাদাবন অঞ্চলের উচ্চ শিক্ষার বাতিঘর মোংলা কলেজের ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কলেজ প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত সকলকে শুভেচ্ছা ও বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি বলেন আজ ১৮ মে রবিবার কলেজের ৪৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১১টায় ক্যাম্পাসে আলোচনা সভা, কলেজ ম্যাগাজিন ’ম্যানগ্রোভ’ এর মোড়ক উন্মোচন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বর্ণাঢ্য র্যালী অনুষ্ঠিত হবে।
নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার পূর্বধলায় রেলওয়ের প্রায় ৪৯ শতাংশ জমি লিজ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। তথ্য গোপন করে প্রতিবেশী জুনায়েদ কবীর জমিটি লিজ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মোস্তফা কামাল ও ...
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো : কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকত সংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে স্ত্রী, একমাত্র সন্তান, শ্যালক ও তিন শ্যালিকাকে হারিয়েছেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়াকোঠা ...
মোংলা থেকে মোঃ নূর আলমঃ প্রত্যেক ধর্মের মূল বাণী শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা। ধর্মীয় অনুষ্ঠান শান্তির বার্তা নিয়ে আসে। সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। মোংলাতে হিন্দু—মুসলমান—খ্রিষ্টান আমরা মিল ...
মহাসিন মিঞা লিটন বরিশাল:কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী, একমাত্র সন্তান, শ্যালক ও তিন শ্যালিকাকে হারিয়েছেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার নূর আলম। অফ ...
সব মন্তব্য
No Comments