উপজেলায় অফিস পাচ্ছেন এমপিরা

প্রকাশ : 21 Apr 2026
উপজেলায় অফিস পাচ্ছেন এমপিরা

স্টাফ রিপোর্টার: উপজেলা পরিষদে জাতীয় সংসদ সদস্যদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশেষ ‘পরিদর্শন কক্ষ’ প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানানোর পর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ অফিসের পাশাপাশি চলাচলের জন্য গাড়ির দাবি জানান। এবার সংসদ সদস্যদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ির না নেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ বিষয়ে স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, ছোটদেরকে কখনো না বলতে নাই।

স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সংসদ সদস্যদের দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলায় অফিসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত সরকারি আদেশ বা জিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বরাবর জারি করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, উপজেলা পরিষদে এটাচ বাথরুম ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ সংসদ সদস্যদের বসার জন্য একটি কক্ষ রেডি করে দেওয়া হবে। বিধিমালা অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নামে সরাসরি কক্ষ বরাদ্দের সুযোগ না থাকায় এই কক্ষটির নাম হবে ‘পরিদর্শন কক্ষ’। এখানে বসে সংসদ সদস্যরা তাদের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ ও সময় ব্যয় করার সুযোগ পাবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় যদি একাধিক উপজেলা থাকে, তবে প্রতিটি উপজেলাতেই তার জন্য এমন অফিস বা পরিদর্শন কক্ষের ব্যবস্থা থাকবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সকল সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান। আজ থেকেই জিও জারি হওয়ায় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার ইউএনওদের সাথে কথা বলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কক্ষটি প্রস্তুত করে নেওয়ার জন্য জানান।

এরপর ফ্লোর নেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, অপজিশন থেকে আপনাদের সবাইকে থ্যাঙ্ক ইউ জানাচ্ছি, একটা বসার অন্তত জায়গা হয়েছে। আমরা লজ্জায় একটা কথা বলি না। এই পার্লামেন্টের সেকেন্ড মোস্ট জুনিয়র হিসেবে একটা কথা বলছি। ইউএনও মহোদয়ের একটা গাড়ি থাকে, উপজেলার চেয়ারম্যানের একটা গাড়ি থাকে, আমাদের ভাড়ায় গাড়ি চালাইতে হয়। আমাদেরকে একটা বসার ব্যবস্থা করে দিছেন। এখন মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য যদি একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের জন্য একটু সুবিধা হয়।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিনন আহমেদ বলেন, এমপিদের প্রাপ্তির পরে অপ্রাপ্তির খবরটা বলতে চাচ্ছিলাম না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেদিন সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন, সেদিন পার্লামেন্টারি পার্টির মিটিংয়ে প্রথমেই দুইটা অনুশাসন দিয়েছেন, আমরা এই নতুন পার্লামেন্টে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আলাদা কোন সুযোগ সুবিধা নেব না। এ জন্য বিদ্যমান আইনে আমরা একটা সংশোধনী আনবো। জাতীয় সংসদের কোন সদস্য ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নিবে না। সংসদ সদস্য নিশ্চয়ই অফিস পেয়ে খুশি হয়েছেন। আবার গাড়ি না পেলে নাখোশ হবেন। তাই সংসদ সদস্যদের যানবাহনের ব্যবস্থা কিভাবে করা যায়, সেটা আলাদাভাবে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাপ আলোচনা করে একটা বিহিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ সময় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে গেলে স্পিকার তাকে ফ্লোর দেন। তিনি বলেন, আমিও ধন্যবাদ দিতে দাঁড়ালাম। কারণ বিরোধী দলেরই একজন সদস্য অফিসের দাবিটা সামনে এনেছিলেন। ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে এটাকে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় ধন্যবাদ জানাই। 

গাড়ির বিষয়ে তিনি বলেন, একটা কথা আছে। যে ছোটদেরকে কখনো না বলতে নাই। তাদের আবদারে সবসময় হ্যাঁ বলতে হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ বলে ফেলেছে। সাথে সাথে না বলতে পারলে আমি বেশি খুশি হতাম। আমি চিন্তা করেছিলাম যে এত বড় খবরের পরে বিরোধী দল থেকে কিছু মিষ্টি খাওয়ায় দিব। কিন্তু এখানে এসে বাধাগ্রস্ত হয়ে গেছি, পারলাম না। একটা ধাক্কা খাইলাম। 

এ সময় বিরোধী দলীয় নেতাকে উদ্দেশ্য করে স্পিকার বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার শেষ লাইনে বলেছেন যে এটা তারা বিবেচনা করে দেখবেন। 

সম্পর্কিত খবর

;