মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের চীনের আল্টিমেটাম, বিরল মৃত্তিকার সরবরাহ হুমকির মুখে!

প্রকাশ : 09 Jul 2025
মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের চীনের আল্টিমেটাম, বিরল মৃত্তিকার সরবরাহ হুমকির মুখে!

সামসুল আলম সজ্জন: মিয়ানমারের উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চল বিরল খনিজ হিসেবে পরিচিত ভারী বিরল মৃত্তিকা সমৃদ্ধ একটি এলাকা। এ অঞ্চলে অবস্থিত বামো শহরটি মিয়ানমারের কাচিন রাজ্যের একটি কৌশলগত গ্যারিসন শহর। শহরটি চীন সীমান্ত থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক ভারী খনিজ—যেমন ডাইস্প্রোশিয়াম ও টারবিয়াম—এই কাচিন রাজ্যের খনিগুলো থেকে উত্তোলিত হয়, যার বেশিরভাগ খনিগুলো আবার বামোর উত্তরে অবস্থিত। চীন এই খনিজ প্রক্রিয়াকরণে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। উত্তোলিত এই বিরল খনিজ চীনে পাঠানো হয়, যা প্রক্রিয়াজাত করে চীনে উৎপাদিত ইলেকট্রনিক যানবাহন এবং বায়ু টারবাইনের জন্য ব্যবহৃত চুম্বক তৈরিতে কাজে লাগে।


২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের অংশ হিসেবে, কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি (কেআইএ) গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চীনা সীমান্ত থেকে মাত্র ৬২ মাইলেরও কম দূরত্বে অবস্থিত বামো শহর দখলে মিয়ানমারে সামরিক জান্তার সঙ্গে মরণপণ লড়াই করছে।


বার্তা সংস্থা রয়টার্সে ৮ জুলাই  প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সম্প্রতি চীন কেআইএর কাছে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে—যদি তারা বামো দখলের প্রচেষ্টা বন্ধ না করে, তাহলে কেআইএর নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে চীন খনিজ ক্রয় বন্ধ করে দেবে।


কেআই ‘র একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন চীন মে মাসে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল।


চীন তার হুমকি বাস্তবায়ন করেছে কিনা তা রয়টার্স নির্ধারণ করতে পারেনি। তবে এই অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে খনির কার্যক্রম সীমিত হয়েছে এবং এই বছর মিয়ানমার থেকে বিরল খনিজ (মৃত্তিকা) রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের প্রতিশোধ হিসেবে চীন বিরল খনিজের রপ্তানি সীমিত করে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে একধরণের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মিয়ানমারের বিপর্যস্ত জান্তা সরকারকে শক্তিশালী করার জন্য চীন সামরিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে, যাতে করে মিয়ানমারের বিরল খনিজ রপ্তানির উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ রেখে চীন তার অর্থনৈতিক স্বার্থের গ্যারান্টার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।


রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে কেআইএ-এর সাথে আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে তারা অবগত নয়।


যদিও মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, "মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং কচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মির মধ্যে দ্রুতই যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনা হওয়া উচিত চীন-মিয়ানমার ও দুই দেশের জনগণের স্বার্থে।"


একজন সিনিয়র কেআইএ জেনারেলকে রয়টার্সের পক্ষ হতে মন্তব্যের অনুরোধ জানানো হলেও তিনি এই বিষয়ে কোনো জবাব দেননি।


কিন্তু নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক কেআইএ কর্মকর্তা বলেন, বেইজিং তাদের জন্য আলোচনার মূলাও ঝুলিয়ে রেখেছেন, যদি মিলিশিয়ারা বামো দখলের প্রচেষ্টা ত্যাগ করে তবে কেআইএ-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলির সাথে বৃহত্তর আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য বাড়তে পারে।


"এবং যদি আমরা রাজি না হই, তাহলে তারা কাচিন রাজ্য থেকে রফতানি বন্ধ করে দেবে, যার মধ্যে বিরল খনিজও থাকবে," অর্থনৈতিক অবরোধের পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি ওই কর্মকর্তা।


মিয়ানমার-কেন্দ্রিক একজন স্বাধীন বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসন বলেছেন, বেইজিং বৃহত্তর গৃহযুদ্ধের সমাধান চাইছে না, বরং তারা চায় তার অর্থনৈতিক স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য লড়াই সীমিত করা হোক।


উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের প্রথম পাঁচ মাসে চীন মিয়ানমার থেকে ১২ হাজার ৯৪৪ মেট্রিক টন রেয়ার আর্থ আমদানি করেছে— যা এর পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় অর্ধেক বলে ধারণা করা হয়।


সম্পর্কিত খবর

;