স্টাফ রিপোর্টার: চেয়ারম্যান নিয়োগকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক, গ্রাহকদের উদ্বেগে ব্যাপক হারে টাকা উত্তোলন এবং ব্যাংকের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রোববার, ১৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
যা ঘটেছে
গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশিদ আলম নিয়োগ পান। তার দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক ও কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতির কারণে তার প্রথম কর্মদিবসের বোর্ড সভা অনলাইনে হয়। একই সময়ে চেয়ারম্যান জুবাইদুর রহমান পদত্যাগ করেন।
এই অস্থিরতার মধ্যে গত পাঁচ কার্যদিবসে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেন গ্রাহকরা। ১ থেকে ৪ জুন চার কার্যদিবসে প্রায় ২ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা এবং ৭ জুন একদিনেই প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রাহকদের টাকা তোলার চাপে ব্যাংকটির তারল্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থ সরবরাহে ব্যর্থ হয় ইসলামী ব্যাংক। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাধ্যতামূলক নগদ জমার হার (সিআরআর) সংরক্ষণেও ব্যর্থ হয় ব্যাংকটি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত
আমানতকারীদের স্বার্থ, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের সংকট দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘আমানতকারীরা কোনো অসুবিধায় পড়বেন না। তারা যেকোনো সময় টাকা তুলতে পারবেন। ইসলামী ব্যাংকের জন্য যা যা জরুরি তারল্য সহায়তা প্রয়োজন, আমরা তা দেব।’
পটভূমি
১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বোর্ড পরিবর্তন করে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় এস আলম গ্রুপের হাতে। এস আলম তাদের নিজস্ব ও বেনামি প্রতিষ্ঠানে মোট ঋণের ৩১ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করে, যার বেশিরভাগ খেলাপি হয়ে যায়। ফলে খেলাপি ঋণ ২০১৬ সালের ৩.৭৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১৮.৫৩ শতাংশে দাঁড়ায়।
৫ আগস্ট ২০২৪-এ সরকার পতনের পর আবারও বোর্ড ভেঙে দিয়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ জামায়াতের হাতে যায়। এবার বিএনপি নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকটিকে জামায়াতমুক্ত করার চেষ্টা করছে, যা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের এস আলম-নিয়ন্ত্রিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে রূপালী ব্যাংকের সাবেক এমডি মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে চেয়ারম্যান করে নতুন বোর্ড গঠন করেছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা ও দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে স্থিতিশীল রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিশেষ সুবিধা শেষ হয়েছে। ফলে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থেকে আগের নিয়মে বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ ...
স্টাফ রিপোর্টার: জরুরি নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে www.bb.org.bd ঠিকানায় প্রবেশ করতে গেলে রক্ষণাব ...
স্টাফ রিপোর্টার: ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন-বাজুসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাজুস।সংগঠনের প্রেসিডেন্ট এন ...
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রৌপ্যের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস)। বুধবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬ বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং এন্ড প্রাইস মনিটরিং এর সভায় এ সিদ ...
সব মন্তব্য
No Comments