ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করলো প্রসিকিউশন

প্রকাশ : 05 Oct 2026
ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করলো প্রসিকিউশন

স্টাফ রিপোর্টার: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল দায়ের করেছে প্রসিকিউশন।


সোমবার (৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আপিল দায়ের করা হয়। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার (৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ইনুর সাজা যথেষ্ট নয় মনে করে প্রসিকিউশন সাজা বাড়ানোর জন্য আপিলের প্রস্তুতি নিয়েছে।


গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই মামলার রায় দেন। রায়ে ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটি অভিযোগে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনটি সাজা একসঙ্গে চলবে বলে আদালত উল্লেখ করেন, ফলে তাকে মোট ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।


রায়ে বলা হয়, ৩ নম্বর অভিযোগে রাইসুল হকসহ অন্যান্য ভিকটিমকে গুরুতর আহত, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের দায়ে তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৬ নম্বর অভিযোগে ১৪-দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও সহযোগিতার দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানাসহ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৭ নম্বর অভিযোগে শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানাসহ আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


অন্যদিকে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে সেসব অভিযোগ থেকে খালাস দেন।


প্রসিকিউশনের আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য, ১৪-দলীয় জোটের সভায় ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্তে সমর্থন, কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের তালিকা করে আটক ও নির্যাতনের নির্দেশ, মারণাস্ত্র ব্যবহার ও হেলিকপ্টার থেকে বম্বিংয়ের পরিকল্পনা এবং ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা ও সারাদেশে ব্যাপক হত্যা-নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ।


প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ট্রাইব্যুনাল যে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন, তাতে প্রসিকিউশন সংক্ষুব্ধ। অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় এই সাজা যথেষ্ট নয়, তাই মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করা হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;