আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দর পতন!

প্রকাশ : 26 Jun 2025
আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দর পতন!

বাণিজ্য ডেস্ক: ২৬ জুন বার্তাসংস্থা রয়টার্স, লন্ডন-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী - মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার উপর ট্রাম্প প্রশাসনের অযাচিত হস্তক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্নতা ক্রমাগত বাড়িয়ে তুলছে। যার ফলে ডলারের মূল্য তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে অর্থ্যাৎ ডলারের দাম আবারও পতনের দিকে যাচ্ছে।


বুধবার ফেড প্রধানের উপর তার সর্বশেষ আক্রমণে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে "ভয়ংকর" বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে শীর্ষ ফেড পদের জন্য তার মনে তিন বা চারজন প্রার্থী রয়েছে।


বৃহস্পতিবার অন্যান্য প্রধান মুদ্রার তুলনায় ডলার বহু বছরের মধ্য সর্বনিম্ন অবস্থানে ফিরে এসেছে, যা সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা হ্রাসের স্বস্তিকেও খুব অল্প সময়ের মধ্যে ম্লান করে দিয়েছে।


এই বছর এখন পর্যন্ত ডলারের মূল্য শতকরা ১০ ভাগ (১০%) হ্রাস পেয়েছে এবং ২০০৩ সালের পর থেকে এটি সবচেয়ে খারাপ বছর হিসেব বিবেচিত হচ্ছে। ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণে ডলার আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আসন্ন ৯ জুলাই বাণিজ্য চুক্তির জন্য সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে ।


আরবিসি ব্লুবে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের একজন সিনিয়র পোর্টফোলিও ম্যানেজার ক্যাসপার হেনস বলেন, "যেসময় অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলি নানাভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সেইরকম একটি বাস্তবতায় আমাদের ডলারের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।” একটি মুদ্রার 'ঘাটতি' তৈরি হওয়ার অর্থ হলো এমন বাজি ধরা, যেখানে এর মূল্য কমে যাবে।


হেনস আরো বলেন, "মূল্যের দিক থেকে বর্তমানে ডলারের দাম শতভাগ নয় এবং এইরকম পরিস্থিতিতে যদি হ্যাসেট বা বেসেন্টের মতো কেউ বাজারের মৌলিক ঝুঁকি উপেক্ষা করে সুদহার কমানোর জন্য দায়িত্ব পান তবে এটি বাজারকে প্রভাবিত করবে।"


ফেডের পরবর্তী প্রধানের জন্য শীর্ষস্থানীয় প্রতিযোগীদের মধ্যে যারা রয়েছেন বলে জানা গেছে তাদের মধ্যে রয়েছে, প্রাক্তন ফেড গভর্নর কেভিন ওয়ার্শ, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের প্রধান কেভিন হ্যাসেট, বর্তমান ফেড গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার এবং ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।


সোসিয়েট জেনারেলের প্রধান ফরেক্স (বৈদেশিক মুদ্রা বাজার) কৌশলবিদ কিট জুকস বলেন, "আমি মনে করি বাজারে মুদ্রামান নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন একজনকে নিয়োগ দেয়া উচিত যিনি অন্তত প্রাথমিকভাবে তার উদ্দেশ্যের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হবেন বলে ধারণা করা যায়।"


এই সপ্তাহের শুরুতে ফেডের নীতিনির্ধারক মিশেল বোম্যান, যাকে সম্প্রতি ট্রাম্প ফেডের শীর্ষ ব্যাংক তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ করেছেন, মন্তব্য করেছেন যে সুদের হার কমানোর সময় হয়েছে, কারণ সুদের হার কমানোর বাস্তবতা তৈরি হওয়ার ফলে ডলার দুর্বল হয়ে পড়েছে।


জুলাই মাসে ফেডের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা প্রায় ২৫%, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২.৫%।


বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের মিত্রদের সাথে ট্রাম্পের দ্বন্দ্ব এবং ফেডের উপর তার আক্রমণের ফলে ইউরোপের দেশ জার্মানিতেও প্রশ্ন উঠেছে কেন জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার সোনার মজুদের কিয়দাংশ নিউ ইয়র্ক ফেডে সংরক্ষিত রেখেছে।


রয়টার্সের গত মাসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধায়করা এই অঞ্চলের ঋণদাতাদের তাদের প্রয়োজনীয় ডলারের পরিমাণ নির্ধারণ করতে বলছেন, যেহেতু তারা এরকম একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ফেডের উপর নির্ভর করতে পারছেন না।


ডলারের পতন:


লেখচিত্র (গ্রাফ): এই বছর ডলারের দাম ১০% এরও বেশি কমেছে


প্রিন্সিপাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান বৈশ্বিক কৌশলবিদ সীমা শাহ উল্লেখ করেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে গত দুই সপ্তাহে ডলারের প্রত্যাশা অনুযায়ী তেমন লাভ হয়নি, যা ডলারের নিরাপদ আশ্রয়স্থলের ভূমিকায় আঘাত হানার ইঙ্গিত দেয়।


সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, তেলের দাম বৃদ্ধির সময় মুদ্রার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে গত সপ্তাহে এটি মাত্র ০.৭% বৃদ্ধি পেয়েছে।


বিশ্বের এক নম্বর রিজার্ভ মুদ্রা ডলার, এই বছর দোদুল্যমান মার্কিন নীতি নির্ধারণের কারণে অস্বাভাবিক দরপতনের হুমকির মুখে পড়েছে যা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং মার্কিন মুদ্রার অধিপত্যের ধারণাকে সন্দেহের মুখে ফেলেছে।

সম্পর্কিত খবর

;