চরম সংকটে রেস্তোরাঁ খাত, সীমিত পরিসরে গরুর মাংস আমদানির দাবি মালিক সমিতির

প্রকাশ : 03 Oct 2026
চরম সংকটে রেস্তোরাঁ খাত, সীমিত পরিসরে গরুর মাংস আমদানির দাবি মালিক সমিতির

স্টাফ রিপোর্টার: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের মজুরিসহ পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের রেস্তোরাঁ খাত চরম সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। এই পরিস্থিতিতে খাতের চাহিদা পূরণ, সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা ও খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমিত পরিসরে গরুর মাংস আমদানির অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। 


শনিবার ৩ অক্টোবর সকালে রাজধানীর পল্টনে ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চরম সংকটে রেস্তোরাঁ খাত, সংকট নিরসনের দাবিতে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান রেস্তোরাঁ খাতের বিভিন্ন সংকট ও দাবির কথা তুলে ধরেন। এ সময় সভাপতি শাহ সুলতান খোকনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 


সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। এই দামে রেস্তোরাঁগুলোর জন্য নিয়মিত ও মানসম্মত মাংস সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে এবং সরবরাহের পরিমাণও চাহিদার তুলনায় কম। রেস্তোরাঁর খাবারের অন্যতম প্রধান উপকরণ গরুর মাংসের দাম বেশি হওয়ায় বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে। আবার খাবারের দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান দাম সমন্বয় করতে পারছে না। ৮০০ টাকা কেজির মাংসে হাড় ও চর্বির পরিমাণ বেশি থাকায় প্রকৃত মাংসের পরিমাণ কমে যাচ্ছে এবং ব্যয় আরও বাড়ছে বলে জানান নেতারা।


সংবাদ সম্মেলনে ইমরান হাসান বলেন, দেশে প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক কৃষক আগে কয়েকটি করে গরু পালন করলেও গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং পালনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এখন তা কঠিন হয়ে পড়েছে। গোখাদ্যের বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটের কারণে দাম বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি মনে করে, নির্দিষ্ট নীতিমালা ও কঠোর তদারকির আওতায় সীমিত পরিসরে গরুর মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দামের ওপর চাপ কমবে। আমদানির ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্য, স্বাস্থ্য ও মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে যথাযথ সরকারি তদারকি থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলনামূলক কম দামে মাংস সংগ্রহ করা গেলে কম দামে গ্রাহকদের খাবার পরিবেশন করা সম্ভব হবে। পাঁচ তারকা হোটেল ও কিছু বিশেষায়িত রেস্তোরাঁ ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে গরুর মাংস আমদানি করে থাকে, তাই অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নির্দিষ্ট শর্তে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।


সংগঠনটি আরও জানায়, কোরবানির সময় গরুর চাহিদা বাড়লেও সারা বছর রেস্তোরাঁ খাতে গরুর মাংসের চাহিদা রয়েছে। কোরবানিকেন্দ্রিক সরবরাহকে সারা বছরের চাহিদা পূরণের বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।


সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ খাতের সামগ্রিক সংকট তুলে ধরে বলা হয়, চাল, ডাল, তেল, মাংস, মাছ, মসলা, শাকসবজি ও ডিমসহ প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, দোকানভাড়া, পরিবহন ও শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে। ফলে রেস্তোরাঁ পরিচালনার ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ব্যয় বাড়লেও অধিকাংশ রেস্তোরাঁ খাবারের দাম বাড়াতে পারছে না, এতে সার্বিকভাবে বিক্রি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে বলে দাবি করা হয়। 


সংকট নিরসনে সংবাদ সম্মেলনে ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ওয়ান-স্টপ সার্ভিস দ্রুত বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে খাবারের দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ বন্ধ, ভ্যাট আদায়ে হয়রানি বন্ধ এবং ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ২ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহার। এছাড়া এলপিজি ও জ্বালানি সংকটের সমাধান, লোডশেডিং কমানো, বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে হয়রানি ও অহেতুক জরিমানা বন্ধ, রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প ঘোষণার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন এবং এ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট শিল্পনীতি প্রণয়ন, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দলের ট্যাগ দিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা। 


সম্পর্কিত খবর

;