জাতীয় সংসদ ভবনের স্টোররুম থেকে উধাও ১৩৪৩টি কপার বার

প্রকাশ : 25 May 2026
জাতীয় সংসদ ভবনের স্টোররুম থেকে উধাও ১৩৪৩টি কপার বার

বিশেষ প্রতিনিধি: রাষ্ট্রের অন্যতম সুরক্ষিত স্থাপনা জাতীয় সংসদ ভবনের স্টোররুম থেকে ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বার উধাও হয়ে গেছে। সরকারি হিসাবে যার বাজারমূল্য ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সংসদ সচিবালয় ও গণপূর্ত বিভাগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আমব্রেলা প্রজেক্টের আওতায় জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল, নিরাপত্তা ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়। এর মধ্যে সংসদ ভবনের নবম তলায় বিদ্যমান চারটি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনের জন্য এলটি সুইচগিয়ার, বাসবার ট্রাঙ্কিং এবং নতুন জিআইএস প্যানেল সরবরাহ ও স্থাপনের কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। টেন্ডার নম্বর ০৫৪(১৩) E/M-৭/, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই কাজ দেখানো হয়। এছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরের আইডি নম্বর ৫২৬২৩২ ও ৫৩৫৫৩৩ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরের আইডি নম্বর ৭৮৩৪৬৬ এর আওতায় কাজগুলো করে এডেক্স করপোরেশন লিমিটেড। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাজগুলো চলমান বলে উল্লেখ করা হয়। 


কাজ শেষে পুরোনো ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বার স্টোরে সংরক্ষণ করা আছে বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা দাবি করেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক স্টোর ভেরিফিকেশনে ওই কপার বারগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। সংসদ ভবনের মতো উচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতর থেকে এত বিপুল পরিমাণ সরকারি মালামাল কীভাবে উধাও হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 


এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্টোর থেকে কপার বার না পাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকেও অবহিত করা হতে পারে।


গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংসদ উপ-বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডেক্স করপোরেশন লিমিটেড দাবি করেছে, তারা কাজ শেষে সব মালামাল বুঝিয়ে দিয়েছে এবং স্টোর রেজিস্টারে এন্ট্রি আছে।


জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্স রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এবং চারপাশে লেক রোড, রোকেয়া সরণী, মানিক মিয়া এভিনিউ ও মিরপুর সড়ক থাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী কঠোর। এরপরও স্টোররুম থেকে কপার বার উধাও হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


সরকারি ক্রয় বিধি অনুযায়ী, প্রকল্পের পুরোনো মালামাল নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনো নিলাম ছাড়াই মালামাল উধাও হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের চিহ্নিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।


সম্পর্কিত খবর

;