ফরিদপুরে সবজির দামে আগুন, নাভিশ্বাস স্বল্প আয়ের মানুষের

প্রকাশ : 17 Apr 2026
ফরিদপুরে সবজির দামে আগুন, নাভিশ্বাস স্বল্প আয়ের মানুষের

অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরের কাঁচাবাজার গুলোতে হঠাৎ করেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে, যা ইতোমধ্যেই জনজীবনে স্পষ্ট চাপ তৈরি করেছে। বাজারে গিয়ে স্বল্প আয়ের মানুষদের হিমশিম খেতে হচ্ছে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা বজায় রাখতে। 

বর্তমান বাজারচিত্রে দেখা যাচ্ছে, আলু ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম নাগালের বাইরে চলে গেছে। আলু প্রতি কেজি ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও পটল ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ও ঝিঙে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন, শসা ও কাঁচা মরিচসহ অন্যান্য সবজির দামও ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে—যা সাধারণ ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।


বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক ক্রেতাই প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে পণ্য কিনছেন। কেউ কেউ আবার খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন। নিম্ন আয়ের একাধিক ভোক্তার ভাষ্য, প্রতিদিনের সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানোই যেখানে কষ্টসাধ্য, সেখানে সবজির এমন মূল্যবৃদ্ধি তাদেরকে বাধ্য করছে খাদ্যতালিকায় কাটছাঁট করতে।


বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ সংকট, পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাবে খুচরা বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 


শুধু সবজিতেই নয়, মাছ, মাংস, ডাল ও ভোজ্যতেলের বাজারেও একই ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা জনজীবনে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা, কার্যকর বাজার মনিটরিং এবং কৃষকদের উৎপাদন সহায়তা বৃদ্ধি। অন্যথায় এই সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


স্থানীয় ভোক্তারা দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এভাবে মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।


এ বিষয়ে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ফরিদপুরের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজ বলেন,“বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে। বাজার তদারকি জোরদার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”


অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান জানান, মৌসুমি পরিবর্তনের কারণে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফরিদপুরের কাঁচাবাজার যেন কেবল একটি বাজার নয়—এটি হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনসংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।


সম্পর্কিত খবর

;