ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধের দাবি কৃষক কর্মশালায়

প্রকাশ : 22 Aug 2026
ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধের দাবি কৃষক কর্মশালায়

নেত্রকোণা প্রতিনিধি: রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা চর্চার মাধ্যমে মাটি, পানি ও বায়ু রক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের আহ্বানে ময়মনসিংহের তারাকান্দায় কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালা থেকে বিপজ্জনক ও নিষিদ্ধ কীটনাশকের বাজারজাত বন্ধে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।


সম্প্রতি তারাকান্দা উপজেলার বিশকা ইউনিয়নের খিচা এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে কৃষক দুলাল মিয়ার বাড়িতে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ‘কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে গ্রিন কোয়ালিশন। এতে সহযোগিতা করে বেসরকারি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান বারসিক (BARCIK)।


কর্মশালায় বিশকা, কামারিয়া, রামপুর ও চরনিলক্ষীয়া ইউনিয়নের ১৪ গ্রামের ২০ জন পারিবারিক কৃষি চর্চাকারী কৃষক ও কৃষাণি অংশ নেন। এতে আলোচনা করেন কৃষক গবেষক আবদুল বারী, মৌচাষি নজরুল ইসলাম এবং বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমান।


আলোচনায় কৃষকেরা রাসায়নিকনির্ভর কৃষির বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক ও এর সম্ভাব্য ঝুঁকি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ, জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।


খিচা এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের ব্যবস্থাপক দুলাল মিয়া বলেন, তাঁর বাড়িতে সারা বছর স্থানীয় জাতের বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হয়। এসব সবজি থেকে পরিবারের খাদ্যের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত অংশ বাজারে বিক্রি করে আয় করেন তাঁরা। হালচাষ, স্থানীয় বীজ ও জৈব সারসহ নিজেদের কৃষি উপকরণ কাজে লাগিয়ে চাষাবাদ করেন তিনি।


দুলাল মিয়া বলেন, প্রকৃতির ক্ষতি না করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য কৃষকদের আরও বেশি করে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।


কর্মশালায় অংশ নেওয়া কৃষক প্রতিনিধিরা বিপজ্জনক ও নিষিদ্ধ কীটনাশকের বাজারজাতকরণ বন্ধের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা এবং পরিবেশবান্ধব জৈব কৃষি চর্চা সম্প্রসারণের দাবি জানান। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানান তাঁরা।


কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষক-কৃষাণিরা খিচা এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার পরিদর্শন করেন। সেখানে স্থানীয় জাতের বীজ, জৈব কৃষি ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁরা সরেজমিনে ধারণা নেন।


সম্পর্কিত খবর

;