বারহাট্টায় রোপণ করা ধান নষ্ট করে জমি দখলের অভিযোগ

প্রকাশ : 18 Sep 2026
বারহাট্টায় রোপণ করা ধান নষ্ট করে জমি দখলের অভিযোগ

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার বারহাট্টায় রোপণ করা ধানখেতে ট্রাক্টর চালিয়ে ফসল নষ্ট করে জমি দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। পরে ওই জমিতে নতুন করে ধান রোপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিক মোছা. সাবিনা রহমান।


এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে বারহাট্টা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাবিনা রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের সোনাউল্লারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


অভিযোগে রহিছ মিয়া (৬৫), তাঁর স্ত্রী রহিমা আক্তার (৬০), ছেলে জিবন মিয়া (৩৩), সুমন মিয়া (২৮) ও সাজ্জাদ মিয়া (২২)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা সবাই সোনাউল্লারচর গ্রামের বাসিন্দা।


সাবিনা রহমানের অভিযোগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোনাউল্লারচর এলাকায় খতিয়ান নম্বর ১৩১২, এসএ দাগ নম্বর ২২৯৫ এবং বিআরএস দাগ নম্বর ৪৫০৯-এর ১৬ শতাংশ জমি ২০২২ সালে সাবকবলা দলিলের মাধ্যমে কেনেন সাবিনা। এরপর থেকে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। সাবিনা ঢাকায় থাকায় তাঁর বোন ও ভাগিনা ওই জমিতে চাষাবাদ করেন। সম্প্রতি জমিটিতে ধান রোপণ করা হয়।


সাবিনা অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার সকালে রহিছ মিয়া, তাঁর স্ত্রী, সন্তানসহ কয়েকজন ওই জমিতে গিয়ে রোপণ করা ধানের ওপর ট্রাক্টর চালিয়ে হালচাষ করেন। এতে জমির প্রায় অর্ধেক অংশের ধান নষ্ট হয়ে যায়। পরে ওই অংশে নতুন করে ধান রোপণ করা হয়। এ সময় তিনি ও তাঁর স্বজনেরা বাধা দিলে তাঁদের খুন ও জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


স্থানীয় গ্রাম কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, সাবিনা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখেই জমিটি কিনেছেন এবং সেখানে ধান রোপণ করেছেন। তবে সম্প্রতি রহিছ মিয়া তাঁর স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে জমিটি খারিজ করিয়ে দখলের চেষ্টা করছেন। প্রায় এক মাস আগে স্থানীয়ভাবে সালিশে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, জমিতে সাবিনা ধান রোপণ করায় তিনিই ফসল ঘরে তুলবেন। জমি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। এরপরও রোপণ করা ধানখেতে ট্রাক্টর চালিয়ে ফসল নষ্ট করা হয়েছে বলে তিনি জানান।


সিংধা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল চৌধুরী বলেন, জমির ফসল নষ্ট করে রহিছ মিয়া ও তাঁর লোকজন অন্যায় করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সাবিনার জমির কাগজপত্র সঠিক। তবে রহিছ মিয়ার স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে জমিটি খারিজ হওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ফসল নষ্টের ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রহিছ মিয়ার স্ত্রী রহিমা আক্তার বলেন, খারিজের মাধ্যমে তিনি ওই জমির মালিক হয়েছেন। তাই বৃহস্পতিবার তিনি সেখানে নতুন করে ধান রোপণ করেছেন। স্থানীয়ভাবে এর আগে যে সালিশ হয়েছিল, তা তিনি মানেন না।


সিংধা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা উজ্জ্বল দত্ত বলেন, ‘ওই জমির খতিয়ানে গরমিল রয়েছে।’ এমন পরিস্থিতিতে রহিমা আক্তারের নামে খারিজের জন্য সুপারিশ করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খারিজ নেওয়ার সময় অনুমান করেছিলাম, এটা নিয়ে ঝামেলা হবে।’


ভুয়া খারিজের অভিযোগের বিষয়ে বারহাট্টার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, খারিজটি ভুয়া প্রমাণিত হলে তা বাতিল করা হবে। এ ছাড়া খারিজের প্রক্রিয়ায় কোনো তহশিলদারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করবে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সম্পর্কিত খবর

;