সন্ধ্যা নদীতে বিলীনের পথে বিদ্যুতের টাওয়ার, অন্ধকারে নিমজ্জিত হবেন লাখো মানুষ

প্রকাশ : 07 Sep 2026
সন্ধ্যা নদীতে বিলীনের পথে বিদ্যুতের টাওয়ার, অন্ধকারে নিমজ্জিত হবেন লাখো মানুষ

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশালের বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের কাজলাহার গ্রামে ৩৩ হাজার ভোল্টেজের একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক টাওয়ার সন্ধ্যা নদীতে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উপজেলার শুভ ব্রিকসফিল্ডের ভেতরে অবস্থিত এই টাওয়ারটি নদীর পশ্চিম পাড়ের পাঁচটি ইউনিয়নের সঙ্গে জেলা ও উপজেলা সদরের বিদ্যুৎ সংযোগ যুক্ত করেছে।


রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, তীব্র ভাঙনে টাওয়ারটি থেকে নদীর দূরত্ব এখন মাত্র ৩০ থেকে ৪০ গজ। যেকোনো মুহূর্তে টাওয়ারটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। একই ঝুঁকিতে রয়েছে শুভ ও কাজী ব্রিকস নামের দুটি ইটভাটাও। গত কয়েকদিন ধরে এ অংশে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।


পল্লী বিদ্যুতের তথ্য অনুযায়ী, ওই পাঁচ ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন, যার সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক মানুষ। টাওয়ারটি ধসে পড়লে বাইশারী, ইলুহার, উদয়কাঠী, সৈয়দকাঠী ও বিশারকান্দি ইউনিয়নসহ বিশাল এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়বে। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক প্রতিরক্ষা বাঁধ তৈরি করা প্রয়োজন। অন্যথায় টাওয়ারটি পুনর্নির্মাণে দীর্ঘ সময় ও বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হবে।


শুভ ব্রিকস ফিল্ডের পরিচালক জহিরুল ইসলাম সৌরভ জানান, অব্যাহত ভাঙনে ইটভাটাও নদীর গ্রাসে চলে যাচ্ছে। বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে জানানো হয়েছে।


বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বানারীপাড়া সাব জোনাল অফিসের এজিএম মো. আল-আমিন বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।


এ প্রসঙ্গে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বলেন, সন্ধ্যা নদীর ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণসহ টেকসই পদক্ষেপ নিতে পানি সম্পদ মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন। আপাতত টাওয়ারটি রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলা হবে এবং প্রয়োজনে টাওয়ারটি স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত খবর

;