ফরিদপুরে ইজিবাইক চোরচক্রের নেপথ্য উন্মোচন:উদ্ধার ১৮টি

প্রকাশ : 25 Feb 2026
ফরিদপুরে ইজিবাইক চোরচক্রের নেপথ্য উন্মোচন:উদ্ধার ১৮টি

অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরে সক্রিয় একটি আন্তঃজেলা ইজিবাইক চুরি চক্রের নেপথ্য রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা পুলিশ। ধারাবাহিক অভিযানে চক্রটির একাধিক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং বিপুল সংখ্যক চোরাইকৃত ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে।


বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম।


পুলিশ সুপার জানান, কোতোয়ালী থানার ইজিবাইক পার্কিং এলাকা থেকে একটি ইজিবাইক চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী চালকের দায়ের করা মামলার সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু হয়। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রথমে একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ধাপে ধাপে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।


তদন্তে উঠে আসে, দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ফরিদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ইজিবাইক চুরি করে আসছিল এই চক্র। চুরি করা যানবাহনগুলো শনাক্ত এড়াতে তারা অভিনব কৌশল অবলম্বন করত—ইজিবাইক ভেঙে যন্ত্রাংশ আলাদা করা, রং পরিবর্তন, ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর বিকৃত করা এবং অবৈধ গ্যারেজে পুনরায় সংযোজন করে বিক্রি করা হতো। ফলে মালিকদের পক্ষে নিজেদের গাড়ি শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত।


পুলিশ জানায়, ফরিদপুরের বোয়ালমারী, মধুখালী ও কোতোয়ালী থানা এলাকাসহ শরীয়তপুর ও মাগুরা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ১৮টি চোরাইকৃত ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি সচল এবং ৫টি অচল অবস্থায় ছিল। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ ও কাটার মেশিন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইজিবাইকগুলোর মধ্যে একটি কোতোয়ালী থানায় দায়েরকৃত মামলার চুরি যাওয়া গাড়ি হিসেবে বাদী শনাক্ত করেছেন।


গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— মোজাম্মেল মণ্ডল, ইলিয়াস হোসেন, আবুল হোসেন মোল্লা, তানভীর শেখ, আওয়াল বিশ্বাস, বদিউজ্জামান মোল্লা, মৃদুল, মিলন খান, মো. আশরাফ, শহীদ শিকদার, জুয়েল রানা ও রনি মিয়া। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সবাই পেশাদার চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) রায়হান গফুর এবং ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়ালসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।


সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, ইজিবাইক চুরি কেবল একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়; এটি নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত। একটি ইজিবাইক অনেক পরিবারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। তাই এমন সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র ভেঙে দিতে পুলিশের সাম্প্রতিক সাফল্য প্রশংসনীয় হলেও, একইসঙ্গে প্রয়োজন স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা।


তাদের মতে, ইজিবাইক নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা, পার্কিং ব্যবস্থায় নজরদারি জোরদার, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি অবৈধ গ্যারেজ ও যন্ত্রাংশ ব্যবসার ওপর কঠোর নজরদারি আরোপ না করলে এ ধরনের চক্র আবারও মাথাচাড়া দিতে পারে।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধই পারে এ ধরনের অপরাধ স্থায়ীভাবে দমন করতে—এমন প্রত্যাশাই এখন ফরিদপুরবাসীর।



সম্পর্কিত খবর

;