ফরিদপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রলোভনে হোটেলে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশ : 09 Apr 2026
ফরিদপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার প্রলোভনে হোটেলে ধর্ষণের অভিযোগ

অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরে সরকারি সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে এক অসহায় বিধবাকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাসে প্রতারিত হয়ে ওই নারী ভয়াবহ এই ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।


মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ও ভুক্তভোগীর সূত্রে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল সকালে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


ফরিদপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা ৪৩ বছর বয়সী ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। প্রায় এক দশক আগে স্বামী হারানোর পর থেকে তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোরকমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তার বসবাস একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে, যেখানে বৃষ্টির সময় ছাদ ফুঁড়ে পানি পড়ে—মানবেতর জীবন যেন তার নিত্যসঙ্গী।


অভিযোগ অনুযায়ী, একই এলাকার বাসিন্দা সুজন শেখ (৩৫) তাকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও বিধবা ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সরকারি সুবিধা পাওয়ার আশায় তিনি তার কথায় আস্থা রাখেন। ঘটনার দিন সকালে উপজেলা পরিষদে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সুজন তাকে রিকশাযোগে শহরের দিকে নিয়ে যান। পরে গোয়ালচামট এলাকার পুরাতন বাসটার্মিনালের কাছে নামিয়ে কিছুদূর হেঁটে একটি আবাসিক হোটেলের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।


সেখানে পৌঁছে সুজন ওই নারীকে জানান, এটিই নাকি কার্ড তৈরির অফিস। সরল বিশ্বাসে তিনি তার সঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর কৌশলে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।


ঘটনার পর শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চারদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ৬ এপ্রিল তিনি বাড়ি ফেরেন।


পরদিন ৭ এপ্রিল তিনি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় তিনি বলেন, “আমি কোনো অফিস চিনতাম না, তার কথায় বিশ্বাস করেছিলাম। আমার অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে সে আমার সর্বনাশ করেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”


তবে অভিযুক্ত সুজন শেখ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।তার দাবি, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী পূর্বেও তার বাড়িতে আসতেন এবং ঘটনার দিন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি তাকে লাথি মারেন। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।


ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”


সম্পর্কিত খবর

;