মৌলভীবাজারে ১৫ গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান করল শিল্পকলা একাডেমি

প্রকাশ : 04 Oct 2025
মৌলভীবাজারে ১৫ গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান করল শিল্পকলা একাডেমি

বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট: বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় অনন্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে মৌলভীবাজারের ১৫ জন গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান করেছে জেলা শিল্পকলা একাডেমি। 


শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত বর্ণিল অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা পদক ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ মহিউদ্দিন, পিপিএম। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানভীর হোসেন।


গুণীজনদের সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় নৃত্য, সংগীত ও নাটকের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক আয়োজন। বিশেষভাবে মঞ্চস্থ হয় নাটক “তুমিই বাংলাদেশ”, যার রচয়িতা কাজী রোকসানা রুমা এবং নির্দেশনা দেন শাহীন ইকবাল। পরিবেশনায় ছিল নাট্যদল মুৎনাট্য, মৌলভীবাজার।


যাঁরা সম্মাননা পেলেন


জেলা শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে ‘গুণিজন সম্মাননা’ ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের জন্য মোট ১৫ জন শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিসেবীকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।


গুণিজন ২০২২ :


সৃজনশীল সাংস্কৃতিক গবেষণায়: মোহাম্মদ আকবর


সঙ্গীতে: সেলিম চৌধুরী


নাট্যকলায়: আবদাল মাহবুব কোরেশি


চারুকলায়: ওয়ালীউর রহমান


যন্ত্রসংগীতে: দুর্গা প্রসাদ দোশায়ারা



গুণিজন ২০২৩ :


সৃজনশীল সাংস্কৃতিক গবেষণায়: মোস্তফা সেলিম


নাট্যকলায়: মো. দেলোয়ার হোসেন


যন্ত্রসংগীতে: প্রসাদ দাস


সঙ্গীতে: শিল্পী মো. তারেক ইকবাল চৌধুরী


লোকসংস্কৃতিতে: সিরাজুল ইসলাম তোলা



গুণিজন ২০২৪ :


সৃজনশীল সাংস্কৃতিক গবেষণায়: মুজিবুর রহমান মুজিব


সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে: ইন্দ্রজিৎ দেব


লোকসংস্কৃতিতে: মো. আব্দুস সহীদ


নাট্যকলায়: মো. তাজুল ইসলাম


সঙ্গীতে: শিল্পী নাদিরা আক্তার



শিল্পী তারেক ইকবাল চৌধুরীর বিশেষ স্বীকৃতি


সম্মাননা প্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শ্রীমঙ্গলের পরিচিত সঙ্গীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শিল্পী মো. তারেক ইকবাল চৌধুরী। বহু বছর ধরে তিনি শ্রীমঙ্গলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।


বর্তমানে তিনি হাছন রাজা লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি শ্রীমঙ্গল শিল্পী কল্যাণ সংস্থা, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সম্মিলিত নৃত্য পরিষদ ও উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীসহ একাধিক সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদক ছিলেন।


বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক আয়োজনে নিয়মিত গান পরিবেশন করে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। শুধু সংগীতশিল্পী হিসেবেই নয়, সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।


সম্মাননা প্রাপ্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ায় তিনি লিখেছেন—

“আমার মতো নগণ্য একজন শিল্পীকে গুণী শিল্পী হিসাবে মনোনীত করায় কৃতজ্ঞতা জানাই বাছাই কমিটির প্রতি। আজ থেকে মনে হয় দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল।”


শুভেচ্ছা বার্তা ও প্রতিক্রিয়া


জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার ও সম্মাননা প্রদান কমিটির সদস্য সচিব আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী বলেন—

“এই আয়োজন কেবল সম্মাননা প্রদান নয়, বরং শিল্প-সংস্কৃতিপ্রেমীদের এক মিলনমেলা।”


অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন—

“তারেক ইকবাল চৌধুরী শুধু একজন প্রতিভাবান শিল্পী নন, তিনি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নিবেদিত সংগঠকও। জেলা শিল্পকলা একাডেমির এই স্বীকৃতি তার প্রাপ্য সম্মান।”


সম্মাননার তাৎপর্য


মৌলভীবাজার সাংস্কৃতিক চর্চার উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সমৃদ্ধ। স্থানীয় সংস্কৃতিকে চাঙ্গা রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে শিল্পচর্চায় অনুপ্রাণিত করার জন্য জেলা শিল্পকলা একাডেমির এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংস্কৃতিসেবীরা।


শিল্পীদের আজীবন অবদানকে স্বীকৃতি জানানোর মাধ্যমে এই সম্মাননা আগামী প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে—এমনটাই মনে করছে স্থানীয় সাংস্কৃতিক মহল।

সম্পর্কিত খবর

;