নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সাংবাদিকদের সুবিধাও দেখা হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রকাশ : 01 Sep 2026
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সাংবাদিকদের সুবিধাও দেখা হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার: নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের সঙ্গে সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের চাকরি ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে না পারলে ভালো সাংবাদিকতা পাওয়া যাবে না। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত কাজ করবে।


মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।


বেসরকারি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, সাংবাদিকদের বিষয়টি রিয়েল প্রবলেম। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংকটসহ এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে। অষ্টম ওয়েজ বোর্ডের পর নবম ওয়েজ বোর্ডের আলোচনা হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন এবং দশম ওয়েজ বোর্ডের দাবির বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে, আমি আপনার সঙ্গে দ্বিমত করছি না। নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একসঙ্গে হবে। আমরা যদি সাংবাদিকদের চাকরি এবং তাদের জীবিকাকে সঠিকভাবে নিশ্চয়তা দিতে না পারি, আমরা বেটার জার্নালিজম পাবো না।


ব্রিফিংয়ে মূল্যস্ফীতি ও নতুন বেতন কাঠামো নিয়েও কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থাকলে তা সহনীয়। কিন্তু দেশের মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন ধরে দুই অঙ্কে ছিল। বর্তমানে কিছুটা কমেছে। নতুন পে-স্কেলের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের বেতন বাড়লে কিছুটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বেতন কাঠামোয় সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে বিষয়টি এমন নয়। দীর্ঘদিন নতুন স্কেল না হওয়ায় অনেক সরকারি কর্মচারীর নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে বর্তমান বেতন নতুন স্কেলের কাছাকাছি চলে গেছে।


মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক তার হাতে থাকা নীতিগত উপকরণ ব্যবহার করে কাজ করবে এবং সরকারও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি। মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সরকারের সামাজিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বছরের শেষ নাগাদ ৪০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ চলছে এবং প্রায় নিখুঁত একটি তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। ৪০ লাখ পরিবারে গড়ে পাঁচজন সদস্য ধরলে প্রায় দুই কোটি মানুষ এই সহায়তার আওতায় আসবে। প্রতি মাসে তাদের কাছে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি, ওএমএস ও টিসিবির পণ্য বিক্রির আওতাও বাড়ানো হয়েছে।


বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে দুই বছর সময় লাগবে- অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সঠিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন। দুই বছর পর বাংলাদেশ বর্তমান সংকটের আগের অবস্থায় ফিরবে বিষয়টি এমন নয়, বরং স্বল্প সময়ের মধ্যেই আগের অবস্থায় পৌঁছানোর আশা করছে সরকার। বর্তমানে যান্ত্রিক ও সরবরাহজনিত কিছু সাময়িক সমস্যা রয়েছে। গ্যাসিফিকেশন ইউনিটের সমস্যা ও সরবরাহ ঘাটতি দূর হলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।


দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন একটি এফএসআরইউ আনার অর্ডার দেওয়া হয়েছে, যা আসতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে। এলএনজি আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকায় এটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশীয় উৎস বাড়াতে বাপেক্স ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখননের কাজ করছে। ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়ে আসার জন্য ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সেপ্টেম্বরে শুরুর আলোচনা হয়েছে এবং আগামী বছর থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দিকে যাবে। দুই বছরের মধ্যে শহর ও গ্রাম মিলিয়ে প্রায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে বড় অনিশ্চয়তা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত বছর এলএনজির দাম প্রতি ইউনিটে ১২-১৩ ডলার থাকলেও বর্তমানে ২৪-২৫ ডলারে পৌঁছেছে, পরিস্থিতি খারাপ হলে ৩০ ডলারের ওপরে যেতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

;