দুই শ্রেণিতে নতুন চার পাঠ্যবই অনুমোদন, মুখস্থের বাইরে আনন্দ ও হাতে-কলমে শেখায় জোর

প্রকাশ : 25 Oct 2026
দুই শ্রেণিতে নতুন চার পাঠ্যবই অনুমোদন, মুখস্থের বাইরে আনন্দ ও হাতে-কলমে শেখায় জোর

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন চারটি পাঠ্যবই অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)। প্রয়োজনীয় পরিমার্জন সাপেক্ষে বইগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত কমিটির পৃথক দুটি সভায় এসব বই অনুমোদন দেওয়া হয়।


চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য অনুমোদিত বই দুটি হলো— ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। অন্যদিকে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন বই হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’। বইগুলো প্রণয়ন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, নীতি-নৈতিকতা, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি এবং বাস্তবমুখী কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বইগুলো তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।


চতুর্থ শ্রেণির বই অনুমোদনের সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান তথ্য কমিশনার নাহরিন ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহসহ কমিটির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।


ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন পাঠ্যবই অনুমোদনের জন্য অনুষ্ঠিত পৃথক সভায়ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সভায় প্রধান তথ্য কমিশনার নাহরিন ইসলাম খানসহ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির অন্যান্য সদস্য অংশ নেন।


এনসিটিবি জানিয়েছে, প্রচলিত মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে এনে আরও বেশি আনন্দময়, জীবনমুখী ও দক্ষ করে গড়ে তুলতেই নতুন বইগুলো যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটি ১৪টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস ও দাবাসহ বিভিন্ন খেলার মৌলিক নিয়মকানুন সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি আত্মরক্ষার জন্য কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর মতো কৌশল, প্রাথমিক চিকিৎসা, পুষ্টি ও সামাজিক দক্ষতার বিষয়ও রয়েছে।


‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইটি ১১টি অধ্যায়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাদ্য সংস্কৃতি, সামাজিক রীতিনীতি এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা বর্ণিল চিত্রে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বাংলা বর্ণমালা চর্চা, বিদ্যালয় উৎসব, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পিঠা-পুলির মেলবন্ধনের পাশাপাশি একটি বিশেষ অধ্যায়ে শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি’র ইতিহাস ও দুর্লভ ছবি যুক্ত করা হয়েছে।


ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটি ৬টি অধ্যায়ে প্রণীত হয়েছে। পাঠ্যকে ভীতিমুক্ত ও আনন্দদায়ক করার দর্শন নিয়ে তৈরি এই বইয়ে প্রচলিত পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে আনন্দময় অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আর ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইটি ৮টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। এতে কারিগরি শিক্ষা পরিচিতি, চারপাশের প্রযুক্তি, ছোট উদ্যোগ বড় সম্ভাবনা, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপনসহ বাস্তব জীবনের নানা কারিগরি সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সমাধান খোঁজার ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে।


এনসিটিবি জানিয়েছে, নতুন চারটি বইয়ের প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ কপি মুদ্রণ করা হবে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন, পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও ভ্যালিডেশন কাজ ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এনসিসির অনুমোদনের পরই কন্টেন্টগুলো মুদ্রণের জন্য প্রেসে পাঠানো হবে। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি কপি বই মুদ্রণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করছে এনসিটিবি।


সম্পর্কিত খবর

;