স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নতুন আচরণ বিধিমালা জারি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকবে না দলীয় প্রতীক, পোস্টার বাদ বিলবোর্ড যুক্ত

প্রকাশ : 07 Sep 2026
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকবে না দলীয় প্রতীক, পোস্টার বাদ বিলবোর্ড যুক্ত

স্টাফ রিপোর্টার: স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন ও সমন্বিত আচরণ বিধিমালা, ২০২৬ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দীর্ঘদিন পর দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নির্দলীয় প্রতীকে হতে যাওয়া এই ভোটকে ঘিরে ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল ও প্রথমবারের মতো বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলেও বিলুপ্ত করা হয়েছে পোস্টারের ব্যবহার।


নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরিত পৃথক গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে ২০১৬ সালের পুরোনো আচরণবিধি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হলো। নতুন এই বিধিমালার মূল উদ্দেশ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধির সঙ্গে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের সামঞ্জস্য রক্ষা করা।


নতুন জারি করা বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনে কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকরা আর পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে সাদা-কালো রঙের ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট এবং হ্যান্ডবিলের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত পরিসরে বিলবোর্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।


কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিলবোর্ডের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাপ নির্ধারণ করে দিয়েছে কমিশন। যার সর্বোচ্চ আয়তন হবে ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট। সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড বসানো যাবে। উপজেলা নির্বাচনে পুরো উপজেলা জুড়ে সর্বোচ্চ ২০টি এবং জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে ইউনিয়ন এলাকায় একটি করে এবং পৌরসভার প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।


এছাড়া ব্যানারের সর্বোচ্চ আকার ১০ ফুট বাই ৪ ফুট, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল এ-ফোর সাইজের (৮.২৭ ইঞ্চি বাই ১১.৬৯ ইঞ্চি) এবং ফেস্টুনের আকার ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি নির্ধারণ করা হয়েছে।


নতুন বিধিতে প্রচার সামগ্রী সাদা-কালো রাখার বিধান রাখা হয়েছে। প্রচার সামগ্রীতে প্রার্থীর নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না। প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা উচ্চতা ৬ ফুটের বেশি হতে পারবে না। ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে মুদ্রণের তারিখ উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক এবং যেকোনো ধরনের পলিথিনের আবরণ বা পিভিসি ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া কোনো জীবন্ত প্রাণীকে প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।


প্রচারণার সময় ও অন্যান্য বিধিনিষেধেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। আগে বেলা ২টার আগে এবং রাত ৮টার পর মাইক নিষিদ্ধ ছিল। নতুন বিধিতে বেলা ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৬ ঘণ্টা মাইক বা শব্দবর্ধনকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে। তবে একটির বেশি মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না। একই সময়ে ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি।


মিছিল, শোডাউন, হেলিকপ্টার ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের খরচ নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে দেখাতে হবে।


নির্বাচনী ক্যাম্পের সংখ্যাও সীমিত করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী তিনটির বেশি এবং সদস্য প্রার্থীরা একটির বেশি ক্যাম্প করতে পারবেন না। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসকদের প্রচারণায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


আচরণবিধি লঙ্ঘনের সাজায় আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। আগে জরিমানা ছিল সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। নতুন বিধিতে তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও পেয়েছে ইসি।


সম্পর্কিত খবর

;