আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মরক্কো থেকে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের স্বশাসিত ছিটমহল সেউতায় প্রবেশের চেষ্টার সময় অন্তত ৩৪ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। সীমান্ত ভেঙে হাজার হাজার মানুষের সেউতায় প্রবেশের চেষ্টার সময় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়। রয়টার্স জানায়, ৩১ জুলাই পর্যন্ত অন্তত ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই সমুদ্রে ডুবে মারা গেছেন।
তবে মৃতের সংখ্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ৪১ জনের মৃত্যুর কথা বলেছে, আর স্প্যানিশ দৈনিক এল পাইস পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে ৪৩ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় এই সংখ্যা সাময়িক বলে জানানো হয়েছে। উইকিপিডিয়ার হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী এই ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা ৫৭ জন পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই সকাল থেকে সেউতার সীমান্তে এই গণপ্রবেশের ঘটনা শুরু হয়। প্রায় ৬০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করে বলে সেউতার প্রেসিডেন্ট হুয়ান হেসুস ভিভাস দাবি করেছেন। স্পেন সরকারের হিসাবে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪৯ হাজার মানুষ প্রবেশ করেছে। বিবিসি-ও একই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে।
অভিবাসীরা মূলত তরজাল এবং বেনজু ব্রেকওয়াটারের চারপাশ দিয়ে সাঁতরে এবং সমুদ্র তীর ধরে হেঁটে সেউতায় প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ, তবে নারী, শিশু এবং অপ্রাপ্তবয়স্করাও রয়েছে। অনেকেই মোবাইল ফোন ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগে নিয়ে ইনার টিউব বা টিউবে ভেসে আসেন।
এই ঘটনায় সেউতার অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ধারণক্ষমতার ২৪০০ শতাংশের বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায়, পার্কে রাত কাটাচ্ছে।
স্পেন সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা সেউতায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন এবং আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই সংকটের পেছনে কূটনৈতিক কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মরক্কোর নাগরিকরা দাবি করছেন তাদের সেউতায় যেতে উৎসাহিত করেছে মরক্কো কর্তৃপক্ষ। এর আগে ২০ জুলাই স্পেনের প্রধানমন্ত্রী আলজেরিয়া সফর করায় মরক্কো অসন্তুষ্ট ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ৮ জুলাই স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পর এই প্রবেশ বেড়েছে বলে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে। ওই রায়ে বলা হয় সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের তাৎক্ষণিক ফেরত পাঠানো যাবে না, সাধারণ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
মরক্কো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং ফিনদেক এলাকার প্রবেশ পথ বন্ধ করে দিয়েছে। স্পেন জানিয়েছে, ৩১ জুলাই বিকেল পর্যন্ত প্রবেশকারী প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় ২৫ হাজার মানুষ স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছে।
সেউতা এবং মেলিলা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকায় একমাত্র স্থল সীমান্ত। এর আগে ২০২১ সালে প্রায় ৮ হাজার মানুষ একইভাবে সেউতায় প্রবেশ করেছিল। ২০২২ সালের জুনে মেলিলা সীমান্তে একই ধরনের ঘটনায় অন্তত ৩৭ জন অভিবাসী নিহত হয়েছিলেন বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে আবর্জনার বিশাল স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। রোববার ভোররাতে ভারী বৃষ্টির পর এই ভয়াবহ ধসের ঘটনা ঘটে।আন্ত ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্ ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে ওড়িশা উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ডুবে গেছে পানামার পতাকাবাহী একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং সরকারি সংবাদ সংস্থা আকাশবাণী নিউজ জ ...
লুতুব আলি, কলকাতা: ব্রহ্মপুত্র ও বরাকের ফুঁসে ওঠা জলে ভয়াবহ অবস্থা আসামে। টানা বৃষ্টিতে ব্রহ্মপুত্র, সুবনসিরি, জিয়া-ভরালি, কপিলি, মানস, পুঠিমারি এবং বরাক নদীর জল বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে বইছে। রাজ্যের ...
সব মন্তব্য
No Comments