বোরহান উদ্দীন রব্বানী :
দেশের অন্যান্য জায়গার মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) থেকে কিছুদিন আগে বিদায় নিয়েছে কনকনে শীত। এখন মার্চ- এপ্রিল চলমান। একপশলা বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুলেছে তার আপন রূপে। প্রাণ ফিরে পেয়েছে মৃতপ্রায় পাতাহীন গাছের ঢালগুলো। কোমল বাতাস ও সুন্দর ফুলের সঙ্গে উষ্ণ আবহাওয়া প্রকৃতির শান্ত-স্নিগ্ধ-অপ্রতিম মুগ্ধতার গন্ধে বলে দিচ্ছে দরজায় কড়া নাড়ছে নতুন ঋতু। ফুল ও প্রকৃতি প্রেমিরা অপেক্ষায় থাকেন এই ঋতুর জন্য।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্তের প্রধান আকর্ষণ হলো চেরি ফুল। অসম্ভব সৌন্দর্যের কারণে চেরি ফুলকে বলা হয় স্বর্গীয় ফুল।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সৌন্দর্যের আতুড়ঘর। এখানকার সব জায়গায় প্রকৃতির মিলন দেখার মতো। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে আসেন ক্যাম্পাসে। এর মধ্যে সৌন্দর্য আরো বহুগুণে বাড়িয়েছে চেরি ফুলগাছ গুলো। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে এই ফুল গাছগুলোর অবস্থান। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলাভবনের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে, পুরাতন কলাভবনের ভেতরে, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সামনে, জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সামনে অবস্থিত গাছগুলোতে এবারও চেরি ফুল ফুটেছে।
চেরি একটি বিদেশি ফুল। এর আদি নিবাস দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ জাপানে। জাপানে এই ফুল তৈরী হয়েছে নানা কথা উপকথা৷ রচিত হয়েছে নানা সাহিত্য, গান, কবিতা। আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই ফুলগাছ ছিল না। জানা যায় ২০০০ সালের কোন এক সময় এ আর খান সর্বপ্রথম চেরি ফুলের বীজ সংগ্রহ করে চারা উৎপাদন করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে রোপন করেন। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ফুল গাছগুলো দেখা মিললেও এখন ফুল গাছ গুলো বিলুপ্তির পথে। গত বৈশাখ বেশ কয়েকটি চেরি ফুল গাছ একেবারে শিকড়সহ উপড়ে যায়। পরে গাছগুলো কেটে পেলা হয়।
চেরি ফুল ও বীজ অনেকটা শিম আকৃতির লম্বা দণ্ডের ফল। ফুলের ভেতর গোলাকৃতি আকৃতির বীজ। আতা ও ডালিম গাছের সাথে অনেকটা তুলনীয়।
সাধারণত গোলাপি, সাদা ও লাল রঙের ফুলের প্রাধান্য বেশি দৃষ্টিগোচর হয় চেরিতে। এক বিচিত্র গড়নের পাপড়ি দেখা যায় ফুলগুলোতে। সেই সঙ্গে গাছে গাছে আনন্দে মেতে ওঠে পাখপাখালি ও হরেক প্রজাতির রঙিন প্রজাপতি। চেরি (Prunus spp) গাছের কাণ্ড অসমান, ডালপালা বিক্ষিপ্ত ও নোয়ানো স্বভাবের। পাতা সবুজ, লম্ব আয়তকার, ১০ সেন্টিমিটার বা ততোধিক অথবা বিচিত্র গড়নের, কিছু জাতের পাতা দেখতে অনেকটা পাটপাতার মতো, শিরা স্পষ্ট, কিনারা দাঁতানো, কোনো কোনোটি বিপ্রতীপভাবে বিন্যস্ত। প্রস্ফুটন মৌসুমে অনেকটাই পত্রহীন। গুচ্ছবদ্ধ ফুলগুলো প্রধানত গোলাপি, সাদা ও লালচে। পাপড়ি ও ফুলের গড়ন বিচিত্র। অসমান পাপড়িসংখ্যা সাধারণত পাঁচ, মাঝখানে সোনালি একগুচ্ছ মুক্ত পুংকেশর। সারা বিশ্বে এদের কিছু জাত ফুল ও কিছু জাত ফলের জন্য বিখ্যাত।
জাপানে মার্চের শেষ ভাগ থেকে এপ্রিলজুড়ে সেখানকার ঐতিহ্যবাহী চেরি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।চেরি ফুলকে বরণ করে নেওয়ার এই অনুষ্ঠানের স্থানীয় নাম ‘হানামি’। ধারণা করা হয়, ৭১০ সাল থেকে জাপানে চেরি উৎসব শুরু হয়েছে।
-ছবিটি তুলেছেন ফটোগ্রাফার নঈম উদ্দীন
এন. সাঈদ।।ইয়েমেনের যুদ্ধকে বিশ্বের অনেক গণমাধ্যমে হুথি বনাম সৌদি আরবের যুদ্ধ হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এই যুদ্ধ ইয়েমেনের জনগণ ও তাদের বৈধ সরকারের সাথে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার ...
তারানা চৌধুরী:২০১৮ সালের অক্টোবর মাস। এক শুক্রবার রাতে মামার বাসায় দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরেন মুনিয়া (ছদ্মনাম)। তখনো সব স্বাভাবিক। কিন্তু পরদিন সকাল থেকেই হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর আর মাথাব্যথা শুরু হয়। বুঝতে দের ...
রাহাদ সুমন: বরিশালের বানারীপাড়ার আমৃত্যু সংগ্রামী শতবর্ষী নারী মায়া রাণী দাস। যেন কবি জসিম উদ্দিনের কবিতার "কঙ্কাল সার" দেহের সেই আসমানীর প্রতিরূপ। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত জীবিকার সন্ধানে কঙ্কালসার ...
মোঃ মাহফুজুর রহমান:একটা সময় ছিল গ্রামের অনেক কৃষক সাদা কাগজে টিপসই দিয়ে ভিটেমাটি হারিয়ে পথের ফকির হয়ে যেত । আবার অনেকে ঋণ না নিয়েও ঋণের ফাঁদে পড়তো । কারণ তারা ছিল নিরক্ষর । মানুষের অজ্ঞতার সুযোগকে কাজ ...
সব মন্তব্য
No Comments